ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক তরুণ প্রযুক্তিকর্মী দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকট এই ঘটনার পেছনে বড় কারণ হতে পারে।
তেলেঙ্গানার বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বানু চন্দ্র রেড্ডি গত সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের অ্যাপার্টমেন্টে আত্মহত্যা করেন। এর কিছু সময় পর তার স্ত্রী, আইবিএমে কর্মরত প্রযুক্তি পেশাজীবী বিবি শাজিয়া সিরাজ একই ভবনের ১৭তম তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যান।
তদন্তে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর প্রায় এক বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে স্থায়ী কাজ খুঁজছিলেন রেড্ডি। তবে প্রযুক্তিখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব ও ছাঁটাই প্রবণতার কারণে তিনি নতুন চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। দীর্ঘ সময় বেকার থাকার ফলে তার ওপর আর্থিক চাপ বাড়তে থাকে, যা মানসিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করে।
এছাড়া পারিবারিক সমর্থনের অভাবও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। জানা গেছে, রেড্ডি ও শাজিয়ার আন্তঃধর্মীয় বিয়ে পরিবার সহজভাবে মেনে নেয়নি। বিশেষ করে রেড্ডির পরিবার এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিল।
ঘটনাস্থল থেকে একটি নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে রেড্ডি নিজের সিদ্ধান্তের জন্য দায় স্বীকার করেন এবং তার স্ত্রীর ওপর কোনো দোষ না চাপানোর অনুরোধ জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, শাজিয়া ঘটনার কিছুদিন আগে বেঙ্গালুরুতে আসেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর গভীর মানসিক আঘাত থেকে তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা আবারও প্রযুক্তিখাতে চাকরির অনিশ্চয়তা, মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সহায়তার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: এনডিটিভি