ইরানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্যে দেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজির বাসভবনে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে খারাজি গুরুতর আহত হয়েছেন, আর তার স্ত্রী ওই হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় উত্তেজনা বেড়েছে এবং তেহরান প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যম জানায়, বুধবার তেহরানে খারাজির বাসভবনে হামলা চালানো হয়। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের লারেস্তানে চারজন নিহত হয়েছেন। খারাজি স্ট্র্যাটেজিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের প্রধান এবং নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা ছিলেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল স্থায়ী অনুশোচনা বা আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত তেহরান যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। ইব্রাহিম জোলফাঘারি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান আরও “ধ্বংসাত্মক, বিস্তৃত ও কঠোর” হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ১,৩৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে অন্তত ২৪ জন এবং অঞ্চলজুড়ে ১৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বুধবার রাতে তেল আবিবে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
খারাজি আগের সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো জায়গা নেই, কারণ তারা বারবার প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে এবং আলোচনার সময়ও হামলা চালিয়েছে।
এই হত্যাচেষ্টার দায় এখনও কেউ স্বীকার করেনি, তবে ইরান সতর্ক করেছে— দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপর হামলা হলে মার্কিন স্বার্থ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।