যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কোনও ‘স্পষ্ট’ কৌশল নেই, যা সাধারণ জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। রিভস বলেন, এই অবস্থার কারণে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমছে এবং কর আদায়ও কমে যাচ্ছে।
রিভস আরও জানান, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্টভাবে ইরানের যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে, যা ট্রাম্পের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে।
বিবিসি রেডিও ২-এ রিভস বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু করার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে আমি ক্ষুব্ধ। এই যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। এজন্যই আমরা এতে যুক্ত হতে চাইনি।” তিনি উল্লেখ করেন, সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটিতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখছে, যাতে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অন্যদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে বিরোধী দলগুলো আরও বিস্তারিত পরিকল্পনা দাবি করেছে। কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে উভয়ই গৃহস্থালি জ্বালানি বিল থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তারা একইসঙ্গে সেপ্টেম্বর থেকে জ্বালানি শুল্ক বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরাও শুল্কবৃদ্ধির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। গ্রিন পার্টি জানিয়েছে, সরকারকে এখনই বিলিয়ন পাউন্ডের ভর্তুকি দেওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে, যখন জুলাই থেকে মূল্যসীমা পুনঃনির্ধারণ করা হবে।
সূত্র: বিবিসি