ডিমলায় এনসিপি দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ: ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বানানো ও আ.লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ

Date: 2026-04-03
news-banner

মোঃ নয়ন ইসলাম, ডিমলা প্রতিনিধি:

​নীলফামারীর ডিমলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত একটি গণসংবর্ধনা ও আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আলম প্লাজা সংলগ্ন 'ইনসাফ হাসপাতাল' নামে একটি প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি এনসিপি’র একাংশের বাঁধার মুখে পণ্ড হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এনসিপি’র নাম ব্যবহার করে মূলত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

​উল্লিখিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর এনসিপি’র একটি বড় গ্রুপ সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয় এবং অনুষ্ঠান পরিচালনায় বাঁধা প্রদান করে। তাদের দাবি, জাতীয় নাগরিক পার্টির নামে এই প্রোগ্রাম আয়োজন করা হলেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মূল ধারার নেতারা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। কিছু অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
​আন্দোলনরত এনসিপি নেতাকর্মীরা বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন: তারা বলেন, "অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছে আলম প্লাজা সংলগ্ন ‘ইনসাফ হাসপাতালে’, যার জমির মালিক স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম। বিক্ষুব্ধদের দাবি, একজন অ-মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ খেতাব দিয়ে ব্যানারে উপস্থাপন করা এনসিপি’র নাম দিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনরায় সক্রিয় করার মঞ্চ তৈরি করেছেন অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় থাকা নীলফামারী জেলা এনসিপি'র যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ রাশেদ ইসলাম।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ জানতেনই না যে এটি কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম। তাদের জানানো হয়েছিল যে এটি ইনসাফ হাসপাতালের ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠান’। হাসপাতালের কথা বলে তাদের রাজনৈতিক সমাবেশে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আজিজুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, শাহ আজিজুর রহমান কোনো গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা নন। একজন অ-মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ খেতাব দিয়ে ব্যানারে উপস্থাপন করায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ও যোগদান প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে এনসিপি নীলফামারী জেলার সদস্য সচিব ডা. মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পণ এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে জাতীয় যুবশক্তি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক ও রংপুর বিভাগীয় উপ-কমিটির সদস্য সাইদুজ্জামান বাবু ও ডোমার উপজেলা এনসিপি'র প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাড. আসিফ ইকবাল উপস্থিত ছিল। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মোঃ রাশেদ ইসলাম।

​বাঁধার মুখে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্দোলনকারী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাম ব্যবহার করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসিত করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সজাগ থাকবেন।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত আয়োজক মোঃ রাশেদ ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী জেলা এনসিপি'র সদস্য সচিব ডা: মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পন বলেন 'তেমন কিছু না, দাওয়াত পাওয়া- না পাওয়া নিয়ে দলীয় ছেলেপেলে নিজেদের মধ্যে ভুলবুঝা-বুঝি, কারেন্ট চলে গেছে তাই আমি সেখান থেকে চলে আসি।'
সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের বিষয়ে পুনরায় জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ অস্বিকার করেন। 

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ্ আজিজুর রহমানকে বীরমুক্তিযোদ্ধা ও প্রধান অতিথি করে ব্যানারে নাম ব্যবহার করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এ বিষয় নিয়ে এখন আমি কথা বলতে পারবোনা, আমি পরে আপনাদের সাথে কথা বলবো।" 

মুক্তিযোদ্ধা নয় তবুও মুক্তিযোদ্ধা লিখে প্রধান অতিথীর আসনে বসিয়ে এনসিপি নেতাকে দিয়ে প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এক বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন,"আমরা যখন ১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে গিয়েছিলাম, তখন কোনো পদের আশায় যাইনি। কিন্তু আজ যখন দেখি মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও ক্ষমতার দাপটে কেউ আমাদের পবিত্র পরিচয়টি গায়ে মাখিয়ে প্রধান অতিথির আসনে বসে, তখন মনে হয় এ যেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে এক চরম পরিহাস। একজন অমুক্তিযোদ্ধাকে 'মুক্তিযোদ্ধা' বানিয়ে মঞ্চে বসানো মানে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা।"

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave Your Comments