কঙ্গোতে ভয়াবহ হামলায় নিহত অন্তত ৪৩, জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে বহু বাড়িঘর

Date: 2026-04-03
news-banner

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ এক হামলায় অন্তত ৪৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটির ইতুরি প্রদেশের মাম্বাসা অঞ্চলে সংঘটিত এই নৃশংস হামলার জন্য আইএসআইএল (আইএস)-সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘অ্যালাইড ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস’ (এডিএফ)-কে দায়ী করেছে কঙ্গোর সেনাবাহিনী।

আঞ্চলিক সেনা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জুলেস চিকুদি এনগোঙ্গো বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জানান, বাফওয়াকোয়া এলাকায় বুধবার সংঘটিত হামলায় অন্তত ৪৩ জন নিহত হন। একই সঙ্গে অন্তত ৪৪টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ গ্রামবাসী বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাপতিস্তে মুনিয়াপান্ডি জানান, ঘটনাস্থলে এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা থাকায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় নেতা ক্রিশ্চিয়ান আলিমাসি জানান, হামলাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস। তিনি বলেন, অনেককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আবার কেউ নিজের ঘরেই আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া হামলাকারীরা দুইজনকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলেও জানা গেছে।

এডিএফ মূলত উগান্ডার সাবেক বিদ্রোহীদের নিয়ে গঠিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা পরবর্তীতে আইএসআইএলের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন ধরে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে তাদের সক্রিয়তা রয়েছে। যদিও তাদের সঠিক সদস্যসংখ্যা জানা যায়নি, তবে এই অঞ্চলে তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

বর্তমানে ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চল একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাতে অস্থির হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহীরা গত বছর বৃহত্তম শহর গোমাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

২০২১ সালে কঙ্গো ও উগান্ডা যৌথভাবে এডিএফ দমনে সামরিক অভিযান শুরু করলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশে এই গোষ্ঠীর হামলা বেড়েছে। বিশেষ করে তারা সরাসরি সেনাবাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

সেনা মুখপাত্র এনগোঙ্গো বলেন, “এডিএফ সচেতনভাবেই বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো শান্তি প্রচেষ্টা ব্যাহত করা এবং পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলা।”

গবেষণা সংস্থা ইনসিকিউরিটি ইনসাইট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পূর্ব কঙ্গোয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত সহিংস ঘটনার প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্য দায়ী এই এডিএফ গোষ্ঠী।

এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা জোরদার এবং বিদ্রোহীদের দমনে নতুন করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে কঙ্গো সরকার।

Leave Your Comments