ভারতের হায়দরাবাদ শহরে কবরস্থানের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে এসব সিলিন্ডার গোপনে মজুত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের অভিজাত এলাকা বানজারা হিলসের একটি কবরস্থানে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছিল। হায়দরাবাদ পুলিশের টাস্কফোর্স ও স্থানীয় থানার যৌথ অভিযানে ৪১৪টি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া সিলিন্ডারগুলোর মধ্যে ভরা ও খালি—উভয় ধরনের সিলিন্ডার ছিল এবং বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডার সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত ১১টি পরিবহন যানবাহনও জব্দ করা হয়েছে। এসব সিলিন্ডার ও যানবাহনের মোট মূল্য প্রায় ২১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
তদন্তে উঠে এসেছে, একটি সংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই বেআইনি মজুতদারি চালিয়ে আসছিল। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন গ্যাস সরবরাহকারী, কয়েকজন ডেলিভারি কর্মী, চালক এবং শ্রমিক রয়েছেন। তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিলিন্ডারগুলো কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যেখানে একটি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের স্বাভাবিক মূল্য প্রায় ২ হাজার ১০০ রুপি, সেখানে তারা সেটি ৬ হাজার রুপি পর্যন্ত বিক্রি করছিল। কবরস্থান থেকেই এই অবৈধ বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।
এই ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। ফলে এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্রগুলো বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “মাত্র একদিনেই প্রায় ২ হাজার ৬০০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং প্রায় ৭০০টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে।” এছাড়া হায়দরাবাদের ঘটনায় জড়িত ডিস্ট্রিবিউটরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছে, কবরস্থানের মতো স্থানে দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শহরের অন্যান্য এলাকাতেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা জানিয়েছেন, আবাসিক এলাকার কাছাকাছি এমন বিপজ্জনকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রাখা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।