পশ্চিমবঙ্গে মোদি না দিদি, উত্তেজনার ৯৬ ঘণ্টা

Date: 2026-05-03
news-banner

পশ্চিমবঙ্গে টানা ৯৬ ঘণ্টার উত্তেজনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে সোমবার, যখন শুরু হবে ভোট গণনা। সকাল ৮টা থেকে পোস্টাল ব্যালট গণনার মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হবে, এরপর খোলা হবে ইভিএম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কমই দেখা গেছে। রাজ্যের পাশাপাশি পুরো ভারতের নজর এখন পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলের দিকে।

বাংলাদেশেও এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। সীমান্তবর্তী রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলে দুই বাংলার সম্পর্ক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ভোটের ফলাফল ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহও তুঙ্গে।

নির্বাচন কমিশন এবার গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে ৭৭ করেছে। কলকাতার ১১টি নির্বাচনী এলাকার ভোট গণনা হবে পাঁচটি কেন্দ্রে। ভোটগ্রহণ শেষে ইভিএমগুলো প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সিলগালা করে বিভিন্ন স্ট্রং রুমে সংরক্ষণ করা হয়েছে। চার দিন ধরে এসব স্ট্রং রুম পাহারা দিচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নেতা-কর্মীরা। নিরাপত্তায় রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

গণনাকে সামনে রেখে দুই দলই তাদের কর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে গণনাকেন্দ্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সীমার বাইরে বিপুলসংখ্যক দলীয় কর্মী মোতায়েন রাখার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপিও পরিবর্তনের আশায় কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলেছে। দলটির দাবি, এবারের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে সহায়তা করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে কর্মীদের মন্দিরে প্রার্থনার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে পশ্চিমবঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। কেউ নিশ্চিতভাবে জয়ী কে হবে তা বলতে পারছে না। কোথাও বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হলেও তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোট, নারীদের সমর্থন, গ্রামাঞ্চলের ভোট প্রবণতা এবং সরকারবিরোধী মনোভাব—সবকিছু মিলিয়ে ফলাফল হতে পারে অনিশ্চিত। ফলে মোদি না দিদি—শেষ হাসি কে হাসবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে গণনার ফল প্রকাশ পর্যন্ত।

Leave Your Comments