ইরানের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি এ প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, তেহরান এখনো তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য “যথেষ্ট মূল্য দেয়নি”।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরান তাদের নতুন প্রস্তাবের বিস্তারিত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব। তারা আমাকে প্রস্তাবের হুবহু বয়ান পাঠাচ্ছে।”
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ ও ফারস জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। এ প্রস্তাবে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নতুন কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কিছু সময় পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প এ প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, “গত ৪৭ বছরে বিশ্ব ও মানবতার যে ক্ষতি তারা করেছে, তার জন্য এখনো বড় কোনো মূল্য দেয়নি। তাই এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।”
চলতি সপ্তাহেই ইরানের আগের একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তেহরান পারমাণবিক ইস্যুর স্থায়ী সমাধানের আগেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
এদিকে ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেন। তিনি বলেন, “যদি তারা কোনো খারাপ পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আমরা দেখব কী করা যায়। সামরিক হামলার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য হওয়া শান্তি আলোচনা এখনো সফল হয়নি।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম গরিবাবাদি বলেছেন, “এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের। তারা কূটনীতির পথে হাঁটবে নাকি সংঘাত চালিয়ে যাবে—ইরান দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত।”
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের নিশ্চয়তা ছাড়া তারা যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সরে আসবে না।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।