চালু না হওয়া শিশু হাসপাতালে বাড়ছে ভোগান্তি, শেবাচিমে উপচে পড়া রোগীর চাপ

Date: 2026-05-04
news-banner

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ

বরিশালে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল ৭ বছরেও চালু না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। ২০১৯ সালে চালুর কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও হাসপাতালটি অচল পড়ে রয়েছে।

এদিকে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার শিশু ভর্তি রয়েছে এসব হাসপাতালে। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেককে একই শয্যায় কিংবা মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ২০১৭ সালে ১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় চারতলা বিশিষ্ট এই শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। তবে বিদ্যুতের সাবস্টেশন স্থাপন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত বুধবার নবাগত বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান আকস্মিকভাবে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। তিনি দ্রুত হাসপাতালটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর ই-ইলাহী বলেন, এখনো হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনিক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য জেলায় একই সময়ে নির্মিত শিশু হাসপাতাল চালু হলেও বরিশালেরটি এখনো অবহেলায় পড়ে আছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল আলম এ বিলম্বের জন্য সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিকে দায়ী করেন।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, দ্রুত সেবা চালুর জন্য কাজ জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব নয়।

Leave Your Comments