যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ নিজ গ্রাম জামালপুরের মাদারগঞ্জে পৌঁছেছে। সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাঁর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসীর আহাজারিতে পুরো এলাকা শোকাহত হয়ে ওঠে।
এর আগে সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে মরদেহবাহী উড়োজাহাজ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ১০টার দিকে মরদেহ জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
গ্রামে পৌঁছানোর পর মরদেহবাহী গাড়িটি বাড়ির আঙিনায় রাখা হলে নারী-পুরুষসহ স্বজনরা শেষবারের মতো তাঁকে দেখার জন্য ভিড় করেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন জামিলের বাবা জহুরুল হক। তাঁর চাচা হেলাল উদ্দিন বলেন, “এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”
নিহত জামিল আহমেদ (২৭) মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এ ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। তাঁর সঙ্গে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। পরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাঁর রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষে গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় ফেলে রাখা কয়েকটি ব্যাগ থেকে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।