চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের শাখায় আমানতকারীদের বিক্ষোভ, তালা ঝুলানো এবং মানববন্ধনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা তুলতে না পারায় সাধারণ গ্রাহকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
আজ সোমবার সকালে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের পাঁচটি শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন আমানতকারীরা। ‘হেয়ার কাট’ বা মুনাফা কেটে রাখার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবিতে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন। পরে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজনের সময় নিজেদের জমাকৃত অর্থ তুলতে না পেরে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সামনে কোরবানির ঈদ—এমন সময়ে টাকা না পেলে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বলে জানান অনেকেই।

একজন আমানতকারী সামিনা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছিলেন। কিন্তু এখন প্রয়োজনের সময় সেই টাকা তুলতে পারছেন না। এতে করে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কাশেম বলেন, ব্যাংকের প্রতি মানুষের যে আস্থা ছিল, তা ভেঙে পড়ছে। গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আচরণও সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ তাঁর।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, হেয়ার কাটের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং তাঁদের জমাকৃত অর্থ শতভাগ ফেরতের নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি লেনদেন স্বাভাবিক করা, উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
এদিকে সমগ্র বাংলাদেশ ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের নেতারা জানিয়েছেন, একীভূত হওয়ার নামে গ্রাহকদের টাকা আটকে রাখা হচ্ছে কি না—এ নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তাঁরা দ্রুত টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডবলমুরিং থানা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগে এসব ব্যাংকের আমানতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে সেই সিদ্ধান্ত আংশিক পরিবর্তন করে সীমিত হারে মুনাফা নির্ধারণ করা হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।