ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা অবসানে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, দুই দেশ একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক (এক পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট) স্বাক্ষরের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক পাকিস্তানি সূত্রের তথ্যমতে, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। সূত্রটি জানায়, “আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছি, খুব দ্রুতই প্রক্রিয়াটি শেষ হবে।”
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে সামরিক অভিযান চলছিল, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থগিত করেছেন। এর পরপরই হোয়াইট হাউস মনে করছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের একটি কাঠামোগত সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সম্ভাব্য চুক্তির শর্তাবলি
প্রস্তাবিত সমঝোতার কাঠামো অনুযায়ী, ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও সম্মত হতে পারে।
এছাড়া উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি নিশ্চিত করেনি। ফলে এই অগ্রগতি কূটনৈতিক সমাধানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও পরিস্থিতি এখনও চূড়ান্তভাবে স্থিতিশীল হয়নি।