আব্দুল কাইয়ুম আরজু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দায় অসহায়ভাবে বসে ছিলেন ৭৮ বছর বয়সী আব্দুল খালেক। চোখেমুখে ছিল দিশেহারা ভাব। জমি হারিয়েছেন অনেক আগে, কিন্তু ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে গত কয়েক বছর ধরে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরেও মিলছিল না সমাধান। অবশেষে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপে ঘুচলো তার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি।
আজ সোমবার (১১ মে) দুপুরে আব্দুল খালেকের হাতে ৩৭ লাখ ২১ হাজার ২৫৬ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক।
আব্দুল খালেকের বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। পটুয়াখালী ইপিজেড নির্মাণের জন্য তার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল (এলএ কেস নং ০১/২১-২২)। নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের দাবি জানালেও বাধে বিপত্তি। তার জমা দেওয়া দলিলের সঠিকতা নিয়ে আপত্তি আসায় বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে দীর্ঘদিন সেই প্রতিবেদন আর ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ফেরেনি। ফলে ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন এই প্রবীণ।
ঘটনার মোড় ঘোরে গত ৯ এপ্রিল। দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দায় ক্লান্ত আব্দুল খালেককে দেখে এগিয়ে যান জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। তিনি পরম মমতায় বৃদ্ধের সমস্যার কথা শোনেন। তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান তিনি। দলিলে সঠিকতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ঝুলে থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা রেজিস্ট্রারকে কড়া নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসকের সরাসরি তদারকির ফলে যা আটকে ছিল মাসের পর মাস, তা সম্পন্ন হয় মাত্র ৭ দিনে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত দাপ্তরিক কাজ শেষ করে আজ আব্দুল খালেকের হাতে কাঙ্ক্ষিত চেকটি হস্তান্তর করা হয়।
চেক হাতে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আব্দুল খালেক। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, "বহুদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম। দালালের খপ্পরে পড়ে আর অফিসের চক্করে জীবনটা শেষ হয়ে যাচ্ছিল। জীবনের এই শেষ বয়সে এসে আজ একটু স্বস্তি পেলাম। ডিসি স্যারের এই ঋণ আমি কোনোদিন ভুলব না।"
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, জেলা প্রশাসন পটুয়াখালী সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। কোনো সেবাগ্রহীতা যাতে হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।