নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী গ্রামে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ‘পাগলা গাছের মেলা’। একটি কাঠের খুঁটি বা গাছকে ঘিরে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে চলে আসা এ মেলায় প্রতিবছরের মতো এবারও ভিড় করছেন হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী।
শুক্রবার (১৫ মে) ১ জ্যৈষ্ঠ শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ মেলা চলবে রবিবার ৩ জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী গ্রামের একটি গাছের খুঁটিকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রমধর্মী এ মেলা বসানো হয়েছে। প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন হয়েছে থাকে। মেলাটি তিনদিন ব্যাপী হলেও পূজা ও অর্চনা হয় শেষের দুদিন।
মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন দোকানি নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন। নাগর দোলা, বাঁশের বাঁশি, কাঠের চেয়ার, হাতপাখা, চৌকি, মোড়া, চুড়ি প্লাস্টিকের খেলনা, মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন রকমের পণ্য রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এটি পাগলা গাছের মেলা হিসেবে পরিচিত। হামছাদী গ্রামের ফনি সেন ও সুরেন্দ সেন নামের দুই ভাই ঘর তৈরির জন্য প্রায় ৫০০ বছর আগে বার্মা থেকে ২০টি খুঁটি কিনে আনেন। খুঁটিগুলোর মধ্যে বাংলা মাসের ১ জ্যৈষ্ঠ রাতে তারা স্বপ্নে দেখেন যে ওই খুঁটি থেকে দুটি নিজেদেরকে দেবতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। পাগল রূপ ধারণ করে দুই ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বলছে আমাকে ঘরের খুঁটির কাজে লাগাবে না। আমি তোমাদের দেবতা। আমাদের উপাসনা কর। এতে তোমাদের মঙ্গল হবে। পাপ থেকে মুক্তি পাবে। রোগ নিরাময় হবে। পরদিন দুই ভাই বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে একটি পুকুর পাড়ে খুঁটিটি দেখতে পান। তার পর থেকে প্রতি বছর পহেলা জ্যৈষ্ঠে বিশেষ পূজা অর্চনা করা হয়।
তারা জানান, এ খুঁটি পূজা মণ্ডপের পাশের একটি পুকুরে সারাবছর ডুবিয়ে রাখা হয়। পাগল ভক্তরা পুকুর থেকে উঠিয়ে দুধ দিয়ে গোসল করায়। তাছাড়া ফল ফলাদি ঘি, খাসি ও পাঠা বলি দিয়ে পাগলা খুঁটির নামে উৎসর্গ করে। পূজা শেষে খুঁটিটি আবার পুকুরে ডুবিয়ে রাখা হয়।
হামছাদী গ্রামের বাসিন্দা রহমান মিয়া জানান, মেলায় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের আগমন ঘটে। প্রতিবছর এ মেলার জন্য স্বজনরা অপেক্ষা করে থাকে।
পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ চন্দ্র শীল বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা এখানে আসছেন। শান্তিপূর্ণভাবে মেলা আয়োজনের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গীতা পাঠ, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। অনেক ভক্ত মানত পূরণ ও মনের বাসনা নিয়ে পাগলনাথের পূজা দিতে আসেন।