চোখের সামনে দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়েছেন বর্ষা, একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায়

Date: 2026-06-02
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শরীরে দুর্ঘটনার ক্ষতচিহ্ন, চোখেমুখে গভীর বিষণ্নতা। ঈদের মাত্র দুই দিন আগে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে এখন আড়াই বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি রাজশাহীর বাগমারার বর্ষা খাতুন (২২)। নিজেও গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। তবে একমাত্র সন্তানের জীবন রক্ষা করতে পেরেছেন—এটুকুই তাঁর সান্ত্বনা।

গত ২৬ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাগমারা উপজেলার নাগপাড়া গ্রাম থেকে মোটরসাইকেলে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন নাজমুল হোসেন (২৬)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী বর্ষা খাতুন ও আড়াই বছরের মেয়ে আফসা খাতুন। ভবানীগঞ্জ-আত্রাই সড়কের নাগপাড়া মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক নাজমুল হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন বর্ষা খাতুন। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি বাবার বাড়ি যোগীপাড়া গ্রামে অবস্থান করছেন।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন বর্ষা। নিজের চিকিৎসা, শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ এবং সংসার চালানোর চিন্তায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাঁর কোনো নিজস্ব আয়ের উৎস নেই। ফলে সামনে কীভাবে জীবন চলবে, তা নিয়েই উদ্বেগে দিন কাটছে।

স্বামী হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে বর্ষা বলেন, “চোখের সামনে স্বামীকে হারিয়েছি। এখন মেয়েকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব, কীভাবে চিকিৎসা চালাব—সেটাই ভাবছি।”

এদিকে ছেলের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ নাজমুলের পরিবার। মা হাসিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছাওয়াল লিইয়্যা ঈদ করবো, তা আর হলো না। এমন ছাওয়াল কারোর হয় না। একন আমি কী লিইয়্যা বাঁচমু।”

নাজমুলের বাবা আবদুর রশিদ জানান, সংসারের প্রধান দায়িত্ব পালন করতেন তাঁর ছেলে। এখন ছেলে হারানোর শোকের পাশাপাশি পুত্রবধূ ও নাতনির চিকিৎসার ব্যয় নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন শেখ বলেন, ঈদের আগে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় দুই পরিবারই গভীর শোকে ডুবে আছে। অর্থাভাবে বর্ষা ও তাঁর শিশুকন্যার চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই বদলে দিয়েছে একটি পরিবারের জীবন। স্বামী হারানোর শোক, শারীরিক যন্ত্রণা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভার নিয়ে এখন প্রতিটি দিন পার করছেন তরুণী বর্ষা খাতুন।

Leave Your Comments