মিয়ানমার-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, আলোচনায় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ

Date: 2026-06-03
news-banner

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং পাঁচ দিনের সরকারি সফরে ভারত সফর করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট ও গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাওয়া মিয়ানমারের জন্য এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকারের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পর্ক কীভাবে গড়ে ওঠে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ রয়েছে।

ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ফলে মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সরাসরি পড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘাতের কারণে হাজারো মিয়ানমার নাগরিক ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে।

দুই নেতার বৈঠকে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিষয়ও উঠে আসে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদি মিয়ানমারে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং গৃহবন্দী সাবেক নেত্রী অং সান সু চির বিষয়েও আলোচনা করেছেন।

বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সশস্ত্র বা নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে নিজ নিজ ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। মিয়ানমারের স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর মিয়ানমারের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভারতের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি বাস্তবায়ন এবং মিয়ানমারে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলাকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে ভারত-মিয়ানমার সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Leave Your Comments