ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। তবে এ যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ওপর।
বুধবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার জন্য হিজবুল্লাহকে সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা দুই দেশ কয়েকটি ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক এলাকা গঠনে সম্মত হয়েছে। এসব এলাকায় কোনো অরাষ্ট্রীয় বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না। শুধু লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবে।
তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতার দিনও সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত ২ মার্চ ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হিজবুল্লাহ নতুন করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। এরপর সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে। এ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল লেবানন ও ইসরায়েলি কূটনীতিকদের মধ্যে চতুর্থ দফার সরাসরি আলোচনা।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ২২ জুনের পর উভয় পক্ষ আবারও নতুন দফার আলোচনায় বসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির এ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এর সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে সংঘাত বন্ধ এবং হিজবুল্লাহর ভূমিকার ওপর।