মোঃ মাইন উদ্দিন :
অবশেষে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার দাড়িয়াকান্দি-ডুমরাকান্দা সড়কের মাঝামাঝি নির্মাণাধীন কালভার্টে সতর্কতা সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই ব্যবস্থা কি আগে নেওয়া যেত না? একজন মানুষের প্রাণ ঝরে যাওয়ার পরই কেন দায়িত্বশীলদের টনক নড়ল?
গত ২ জুন সন্ধ্যায় নির্মাণাধীন কালভার্টের গর্তে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। তার মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই পরদিন একই স্থানে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একটি অটোরিকশাও দুর্ঘটনার শিকার হয়। এর আগেও সেখানে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও সেখানে কোনো কার্যকর সতর্কতা ব্যবস্থা ছিল না।
সড়ক নির্মাণ বা কালভার্টের কাজ চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিশেষ করে জনসাধারণের চলাচলের পথে বড় ধরনের গর্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান তৈরি হলে সেখানে আগেভাগেই সতর্কতা সাইনবোর্ড, ব্যারিকেড, রাতে দৃশ্যমান আলোর ব্যবস্থা এবং বিকল্প চলাচলের পথ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলাফল হিসেবে সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
দাড়িয়াকান্দি-ডুমরাকান্দা সড়কের ঘটনাও সেই চিরচেনা অবহেলারই একটি উদাহরণ। দুর্ঘটনার পরপরই যদি সাইনবোর্ড ও ব্যারিকেড স্থাপন করা সম্ভব হয়, তাহলে আগে কেন তা করা হয়নি? তবে একটি প্রাণহানির পর গৃহীত ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, কিন্তু এটি দায়িত্ব পালনের উদাহরণ নয়, বরং পূর্বের অবহেলার স্বীকৃতি।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এখনও সেখানে বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় মানুষ ও যানবাহন চালকদের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। শুধু সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক তদারকি প্রয়োজন।
উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য যদি মানুষের প্রাণ দিতে হয়, তাহলে সেই উন্নয়নের সাফল্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
দাড়িয়াকান্দি-ডুমরাকান্দা সড়কের এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এমন অবহেলার কারণে স্বজন হারানোর বেদনা না পায়, সে জন্য দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ একটি প্রাণের মূল্য কোনো প্রকল্পের চেয়ে কখনোই কম নয়।