বান্দরবানের লামায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মংচেসা মারমা (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মিনঝিরি পাড়া সাদাপাথর এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাতামুহুরী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মংচেসা মারমা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিনঝিরি পাড়ার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত পাইংসাউ মারমা। জানা যায়, তিনি পাশের একটি বাগান দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা মৌজার মিনঝিরি পাড়া সাদাপাথর এলাকায় হোয়াইট পিক রিসোর্টের পাশে ধান ক্ষেত বন্য প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা করতে গত ৬ নভেম্বর রাতে পাহাড়ের গা ঘেঁষে একটি বৈদ্যুতিক তার স্থাপন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রিসোর্ট মালিকের চাষা ও কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত মো. ছাবের আহমেদ ওই তার স্থাপন করেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই রাতেই মংচেসা মারমা ওই পথ দিয়ে চলাচলের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
তবে ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে লাশ উদ্ধারের স্থান নিয়ে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হলে লাশ ঘটনাস্থলে থাকার কথা থাকলেও লাশটি নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। লাশটি কিভাবে নদীতে আসলো, তা এখনো জানা যায়নি।
এদিকে ঘটনার পর থেকে রিসোর্ট মালিকের চাষা ও কেয়ারটেকার মো. ছাবের আহমেদকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে। তিনি পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনাস্থল থেকে স্থানিয় লোকজন রিসোর্টের পাশে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে কল দেন। খবর পেয়ে লামা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাতামুহুরী নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এলাকাবাসী সন্দিহান। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
লামা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কায়ছার হামিদ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।