বগুড়ার শিবগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিনজনকে বেধরকভাবে মারপিট করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহতরা হলেন জাহিদুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম ও মেয়ে সাজিয়া আক্তার। এ সময় তার মেয়ের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন কু-উদ্দেশে ছিনিয়ে নেয় এবং গৃহবধূর শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
গত ৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের হাজরাবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে অকথ্য গালিগালাজ শুরু করেন।
জাহিদুল ইসলাম বাধা প্রদান করলে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিবাদীর হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা মাথায় আঘাত করে । উক্ত ২নং বিবাদীর হাতে থাকা বাঁশের লাঠির আঘাতে তাঁর ডান হাতের আঙুলেও গুরুতর জখম হয়।জাহিদুলের স্ত্রী ও মেয়ে এগিয়ে আসিলে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় মেয়ের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। তাঁর স্ত্রীর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। এছাড়া মেয়ের গলায় থাকা আনুমানিক এক লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং জাহিদুলের স্ত্রীর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত তিনজনকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।