জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও দুটি সরকারি ভবনে পতাকা উত্তোলন না করার অভিযোগ উঠেছে। ভবন দুটি হলো উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও উপজেলা ডাকবাংলো। সরকারি নির্দেশনা পালনে এমন ব্যত্যয় নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়। তবে এ সময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও উপজেলা ডাকবাংলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই নির্দেশনা রয়েছে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর ক্ষেত্রেও। এমন নির্দেশনার পরও উপজেলার দুটি সরকারি ভবনে পতাকা উত্তোলন না হওয়ায় দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে খানবাহাদুর আওলাদ হোসেন খান কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু বলেন, জাতীয় পতাকা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। নির্ধারিত দিবসে পতাকা উত্তোলন না করা কিংবা এ বিষয়ে অবহেলা করা জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। সরকারি নির্দেশনা ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যথাযথভাবে এ কর্মসূচি পালন করা উচিত।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান বলেন, “বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছি।”
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানাও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দুটি সরকারি ভবনে কেন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।