১৯৭১ সাল পরবর্তী সময়ে মূলত বাংলাদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রচলন শুরু হলে ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে শেখ মুজিবুর রহমানসহ পুরো পরিবারকে হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশে এখনায়কতন্ত্র তথা একদলীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়। দেশে গণতন্ত্র কামি এবং মুক্তি কামী সাধারণ মানুষ আগস্ট পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারের শাসনামল মেনে নিতে পারেনি সে সময় বন্দি করা হয়েছিল তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সহ অসংখ্য অসংখ্য গণতন্ত্রের সেনানায়কদের।
৭ নভেম্বর ছিল মূলত এ দেশ থেকে এক দলীয় শাসনব্যবস্থার প্রথা কে বিলুপ্তি করার দিবস। সেদিন তৎকালীন কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে সিপাহী জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অভ্যুত্থান সৃষ্টি করার ফলে মেজর জিয়াউর রহমান সহ সকল বন্দী মুক্তি পেয়ে পরবর্তীতে গণতন্ত্রের সূচনা হয় বাংলাদেশে এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব চলে আসে মেজর জিয়াউর রহমানের কাছে তিনি মূলত এদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। বাংলাদেশের বাকশাল একনায়কতন্ত্র একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে দেশে গণতন্ত্র সৃষ্টি করে এক নজির সৃষ্টি করেছেন বিশ্বে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহী-জনতা বিপ্লবের স্মরণে পালিত স্মারক এবং ভূতপূর্ব সরকারি ছুটির দিন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের আমলে মূলত ৭ই নভেম্বর বাংলাদেশে সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়েছে। এই বিপ্লবের বিরোধী ও সমালোচক গোষ্ঠী, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সদস্যগণ, বিপ্লবীদের আক্রমণে খালেদ মোশাররফসহ আরও কয়েক মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদেরদের মৃত্যুর প্রতিবাদে এই দিনটিকে "মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস" হিসাবে আখ্যা দেয়।
অনেক বছর পর বাংলাদেশে শুধুমাত্র গুটিকয়েক রাজনৈতিক দল ছাড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দল আজ ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে শেষ কয়েক বছরে গণতন্ত্রের চর্চা ছিল না জনগণের মাঝে সাধারণ মানুষ গণতন্ত্রের বাইরে ছিল দীর্ঘ ১৭ বছর। তাই সারম্বরে আজ বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সফল কর্মসূচি পালিত হচ্ছে বিনা-বাধায়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র নেতা কর্মীরা আনন্দ গন পরিবেশে অত্যন্ত শত ভাবে মিছিল সহকারে স্লোগানে স্লোগানে রাজধানীর জিয়া উদ্যান থেকে শুরু করে দেশের সকল জেলা উপজেলায় আজকের দিবসটিকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করতেছে। ফুলেল শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধাভরে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতেছে জনগণের মাঝে। আজকের দিবসটিকে সরকারিভাবে পালন করার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে যা এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আগামীতে বাংলাদেশে সর্বদা গণতন্ত্রের চর্চা থাকুক এবং এদেশের সাধারণ মানুষ গণতান্ত্রিক ভাবে চলাফেরা করুক সে প্রত্যাশা করি।