দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত মেট্রোপলিটন অপেরা হাউসের পক্ষে একাধিক নতুন ও ব্যয়বহুল সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়া কঠিন বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বড় পরিসরে ও সাহসী উদ্যোগ নেওয়াই সংকট কাটিয়ে ওঠার সবচেয়ে ভালো পথ।
এরই অংশ হিসেবে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুটি মহাদেশে দুটি নতুন অপেরার বিশ্ব-প্রিমিয়ারের আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই উচ্চাভিলাষী আয়োজনের শেষ ধাপ হিসেবে সোমবার মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’। জর্জ সন্ডার্সের বুকার পুরস্কারজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই অপেরায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ব্যক্তিগত শোকের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। গৃহযুদ্ধের শুরুর দিকে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা লিংকন কীভাবে তার ১১ বছর বয়সী ছেলের মৃত্যুশোক সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন, তা-ই এই গল্পের মূল বিষয়।
উদীয়মান মার্কিন সুরকার মিসি মাজোল্লির লেখা ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’ মঞ্চস্থ হওয়ার আগে ওয়ারশতে মেট অপেরার অর্থায়নে নির্মিত ‘দ্য মাদার্স অব খেরসন’-এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়েছে। ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের সেই মায়েদের গল্প নিয়ে অপেরাটি নির্মিত, যারা রাশিয়ার আগ্রাসনের পর অপহৃত সন্তানদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন।
১৪৩ বছরের পুরোনো মেট অপেরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’ বর্তমান বিভক্ত মার্কিন সমাজের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি কাজ। অন্যদিকে, ‘দ্য মাদার্স অব খেরসন’ এমন একটি যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরে, যা এখনো বিশ্বরাজনীতিকে প্রভাবিত করছে।
মেট অপেরার মহাব্যবস্থাপক পিটার গেল্ব এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের আর্থিক সংকট ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো সাহসী উদ্যোগ নেওয়া এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেট যে অপরিহার্য, তা প্রমাণ করা।’
তিনি বলেন, নিরাপদ পথ বেছে নিয়ে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার অর্থ হবে ‘নিশ্চিত ব্যর্থতা’। পিটারের ভাষায়, ‘এই মহান প্রতিষ্ঠানকে চিরস্থায়ী করে রাখাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’