"মা, তুমি ভালো করে পড়াশোনা কোরো, বাইরে আমার জন্য গাড়ি অপেক্ষা করছে"—মাদ্রাসাপড়ুয়া ১০ বছরের মেয়ে আরিফার কপালে স্নেহের শেষ চুমোটি এঁকে দিয়ে এভাবেই বিদায় নিয়েছিলেন মা সাথী পারভীন (৩০)। কিন্তু সেই বিদায় যে গৃহত্যাগের, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি অবুঝ শিশুটি। ঘটনার ১২ দিন পার হয়ে গেলেও আজও বাড়ি ফেরেননি তিনি। মায়ের অপেক্ষায় পথ চেয়ে অঝোরে কাঁদছে চার বছরের শিশুপুত্র আরেফিন ও ১০ বছরের মেয়ে আরিফা। সন্তান দুটির আর্তনাদে এখন ভারী হয়ে উঠেছে পাটকেলঘাটা থানার পাঁচপাড়া গ্রামের বাতাস।
পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের বাবলুর রহমানের মেয়ে সাথী পারভীনের সাথে ২০১২ সালে তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল আলিমের বিবাহ সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে কোলজুড়ে আসে দুই সন্তান। অভাব-অনটনের মাঝেও শান্তিতেই কাটছিল তাদের সংসার।
গত ১০ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন সাথী পারভীন। দিনশেষে রাত ১১টার দিকে স্বামী আব্দুল আলিম মেহনতের কাজ শেষে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শ্বশুরবাড়িসহ সম্ভাব্য সব আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে সন্ধান করেও তাঁর কোনো হদিস মেলেনি। পরবর্তীতে জানা যায়, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাথী পারভীন তাঁর ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন, নগদ টাকা এবং পরনের কাপড়চোপড় সাথে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে তাঁর মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।
কাতর কণ্ঠে পেশায় ভ্যানচালক স্বামী আব্দুল আলিম বলেন, "আমার অবুঝ দুটি শিশু সন্তান সারাক্ষণ মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছে। ওদের কীভাবে সান্ত্বনা দেব বুঝতে পারছি না। স্ত্রী সবসময় 'ইমো বোর্ড' ব্যবহারে আসক্ত ছিলেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেল কি না, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।" এ ঘটনায় তিনি গত ১২ অক্টোবর পাটকেলঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সাধারণ ডায়েরি পাওয়ার পরপরই ধানদিয়া ইউনিয়নের বিট অফিসার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই নারী আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে নিখোঁজ নারীর সঠিক সন্ধান লাভ এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের জোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।