প্রথমেই সাংবাদিক এ আর সুমন কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি অষ্টগ্রামবাসীসহ বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের যেসব মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, আমার প্রতি আস্থা রাখেন এবং আমাকে নিয়ে তাঁদের প্রত্যাশার কথা প্রকাশ করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি রইল আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
আমি মনে করি, জনপ্রতিনিধি হওয়া শুধু একটি পদ বা পরিচয়ের বিষয় নয়; এটি মানুষের প্রতি দায়িত্ব, ভালোবাসা এবং জবাবদিহির একটি অঙ্গীকার। জনগণের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়নের মানুষের ভালোবাসায় টানা তিনবার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছি। এই দীর্ঘ পথচলায় মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, অভাব-অভিযোগ এবং নানা সীমাবদ্ধতা খুব কাছ থেকে দেখেছি। মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি, আগামীতেও সাধ্য অনুযায়ী সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাই। আমার কাছে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ধনী-দরিদ্রের পরিচয়ের চেয়ে বড় পরিচয়—আমরা সবাই এই জনপদের মানুষ।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার প্রত্যাশা প্রসঙ্গে বলতে চাই, মানুষের ভালোবাসা ও প্রত্যাশা আমার জন্য সম্মানের, একই সঙ্গে এটি একটি বড় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে কোনো পদকে আমি জনসেবার চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করি না। পদ থাকুক বা না থাকুক, মানুষের পাশে থাকা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতাই আমার কাছে বড়।
অষ্টগ্রাম আমার শিকড়, আমার ভালোবাসার জনপদ। একই সঙ্গে ইটনা, মিঠামইনসহ বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, সম্ভাবনা ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আমাকে ভাবায়। হাওরের কৃষক, জেলে, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ, নারী, প্রবীণ এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।
আমি বিশ্বাস করি, হাওরের উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ নয়। এর অর্থ কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ, জেলেদের জীবিকা রক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। হাওরের সমস্যাগুলোকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
হাওরাঞ্চলের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও সেই বৃহত্তর চিন্তার অংশ—যাতে এই অঞ্চলের বিশেষ সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের প্রয়োজনগুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা যায়। আমি চাই, হাওরের মানুষের ন্যায্য দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাক এবং বাস্তবসম্মত উদ্যোগের মাধ্যমে সেগুলোর সমাধানের পথ তৈরি হোক।
আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক পথচলায় আমি সব সময় মানুষের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি। হয়তো সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়নি, হয়তো অনেক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি; কিন্তু মানুষের কথা শোনা, তাঁদের কষ্ট উপলব্ধি করা এবং সাধ্যের মধ্যে সহযোগিতা করার চেষ্টা থেকে কখনো পিছিয়ে থাকতে চাই না। ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করে আরও ভালোভাবে মানুষের সেবা করাই আমার অঙ্গীকার।
আমি মনে করি, নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত কাজ, সততা, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং মানুষের আস্থার ভিত্তিতে। তাই অষ্টগ্রামসহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষের মতামত, প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণকে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিই।
আমার কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়—আমি আপনাদেরই একজন। আপনাদের ভালোবাসা, পরামর্শ, আলোচনা, সমালোচনা ও সহযোগিতা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। ভবিষ্যতে জনগণ আমাকে যে দায়িত্বেই রাখুন না কেন, জনকল্যাণ, সামাজিক সম্প্রীতি, ন্যায়সংগত অধিকার এবং হাওরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের পক্ষে আমার অবস্থান থাকবে।
আসুন, ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা সবাই মিলে অষ্টগ্রামসহ বৃহত্তর হাওরাঞ্চলকে একটি উন্নত, মানবিক ও সম্ভাবনাময় জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। পদ নয়, মানুষের ভালোবাসাই আমার প্রেরণা; ক্ষমতা নয়, মানুষের কল্যাণই আমার অঙ্গীকার।সবার দোয়া, ভালোবাসা, পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করছি।
সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু চেয়ারম্যান, অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদ অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ।