পঞ্চগড়ের ক্রীড়াঙ্গনের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ। সরকারি নানা ব্যস্ততার মধ্যেও নিজ এলাকায় সময় পেলেই ভোরে মাঠে গিয়ে স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলায় অংশ নিচ্ছেন তিনি। তাঁর এমন উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
সম্প্রতি পঞ্চগড়ের বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ভোরবেলায় ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলার একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যস্ততার বাইরে সাধারণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে তাঁর এমন উপস্থিতি স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের মতে, পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ডেপুটি চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন আজাদ খেলাধুলার প্রসারে ব্যক্তিগতভাবেও আগ্রহী। নিজ এলাকায় অবস্থানকালে ভোরে মাঠে উপস্থিত হয়ে তরুণ ও অপেশাদার খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁদের নিয়মিত খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করছেন।
জেলার ক্রীড়াঙ্গনের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাবেক ক্রীড়াবিদরাও। নব্বইয়ের দশকে বোদা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পাওয়া হাসানুজ্জামান লাতু বলেন, “পঞ্চগড় জেলা একসময় খেলাধুলায় গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল।
এ অঞ্চলের অনেক কৃতী খেলোয়াড় ঢাকার বিভিন্ন লীগ ও দ্বিতীয় বিভাগে সাফল্যের সঙ্গে খেলেছেন। কিন্তু মাঝখানে দীর্ঘ সময় ধরে আমরা খেলাধুলায় পিছিয়ে পড়েছি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে মাননীয় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নিজেই ভোরে মাঠে উপস্থিত হচ্ছেন। হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন। এটি নতুন ও সাবেক ক্রীড়াবিদদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।”
খেলাধুলার প্রসারে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময় বলেন, “মাদকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা এবং তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শত ব্যস্ততার মধ্যেও ভোরে মাঠে এসে খেলোয়াড়দের অনুশীলনে অংশ নেওয়ায় তরুণদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা ও দক্ষ খেলোয়াড় তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মাঠে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন বাড়ানো গেলে পঞ্চগড়ের ক্রীড়াঙ্গন আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগ ধারাবাহিকতা পেলে পঞ্চগড়ের হারানো ক্রীড়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসার পথ আরও সুগম হবে।