ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে এলোপাতাড়ি গুলিতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে ত্রাপ ও লা ভেরিয়ের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটিকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী একটি গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে গুলি চালান। প্রথমে প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ত্রাপ এলাকায় এবং পরে পার্শ্ববর্তী লা ভেরিয়ের শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বলেন, ভুক্তভোগীদের গায়ের রং কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। বর্ণবাদী আদর্শের বিস্তার রোধে সবাইকে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধূসর রঙের একটি রেনো ক্লিও গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গুলি চালান সন্দেহভাজন ব্যক্তি। ত্রাপের মেয়র আলি রাবেহের দাবি, হামলাকারী একটি পেট্রলপাম্প, চিকিৎসাকেন্দ্র ও শিশুদের খেলার মাঠের কাছেও গুলি চালান। পরে তিনি পাশের লা ভেরিয়ের এলাকায় চলে যান।
পুলিশ ইউনিয়নের এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এন১০ মহাসড়ক থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ফরাসি সংবাদমাধ্যমে তাঁর নাম কেভিন টি হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর বয়স ৩৯ বছর। জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে চারটি অপরাধের দণ্ডাদেশ ছিল।
আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী কিশোরীর অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তার মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর জানিয়েছে, ঘটনাটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তবে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে বর্ণবাদী বিদ্বেষ কাজ করেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।