ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
প্যারিসে একটি পদযাত্রা শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও শেষ পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কিছু বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। একটি গাড়ির শোরুমেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লরাঁ নুনেজ জানান, পদযাত্রার শেষ অংশে কয়েক হাজার উগ্রপন্থি কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে দাঙ্গায় জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। দিনের শেষভাগে প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়। সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
প্যারিসের বাইরে মার্সেই, বোর্দো ও লিওঁ শহরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মার্সেইতে আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়া ও রাস্তা অবরোধের ঘটনা ঘটে। বোর্দোতে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ রাস্তা অবরোধ করে। অন্যদিকে, লিওঁতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি এলাকায় জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমছে না। সরকারের নীতির কারণে তাঁরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন বলেও দাবি করেন অনেকে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন তরুণ জানান, তাঁরা সরকারের কাছ থেকে যথাযথ সাড়া পাচ্ছেন না। পরিবর্তনের দাবিতেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চলতি সপ্তাহের শুরুতে কেবল স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গত সপ্তাহান্তেও দেশটিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। ওই বিক্ষোভের পর আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। বিরোধী রাজনীতিকদের কেউ কেউ সরকারের নীতিকে বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী করেছেন। তবে বিক্ষোভের পাশাপাশি সহিংসতা ও সম্পদহানির ঘটনাও দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি ও এএফপির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন