সাকিব হাওলাদার ডাসার (মাদারীপুর) :
মাদারীপুরের সাজানো গোছানো একটি গ্রাম ডাসার। এই গ্রামে প্রতিবছরের ন্যায় শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসতে শুরু করছে বিভিন্ন অতিথি পাখি।
দৃষ্টিনন্দন এই গ্রামটিতে প্রতিবছররের ন্যায় শীত আসতেই সৌন্দর্য আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে এসব অতিথি পাখির ঝাঁক। অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার চারপাশ।
ডাসারের অপরুপ সৌন্দর্যের মধ্যে দাড়িয়ে আছে পাশাপাশি দুইটি দৃষ্টিনন্দন কলেজের উঁচু উঁচু দালানকোঠা একটি সরকারি শেখ হাসিনা উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ অপরটি সৈয়দ আতাহার আলী একাডেমি এন্ড কলেজ। এখানে রয়েছে শিক্ষক ও হাজারো শিক্ষার্থী। উপজেলার এই গ্রামটিতে প্রতিদিন এমনিতেই দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থী ভীর লেগেই থাকে।শীতের শুরুতে দর্শনার্থীদের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করছে অতিথি পাখি । এসব পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে বায়তুল নূর-ই মসজিদ এর পাশে ডাসার থানার সামনে ছোট একটি চকের জলাশয়ের আশপাশ। আকাশজুড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে বালি হাঁসের ঝাক। ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ করে ডুবসাঁতার আর খুনসুটিতে মেতে উঠেছে। কিছু পালকের ভেতর মুখ গুঁজে রোদ পোহাচ্ছ। কিছু আবার মাছ ধরার প্রতিযোগিতায় নামছে। সকাল থেকে সন্ধা অব্দি থাকে এসব অতিথি পাখির ঝাঁক।
প্রতিবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে হিমালয়ের উত্তরে নামতে শুরু করে প্রচণ্ড শীত। ফলে উত্তরের শীতপ্রধান অঞ্চল সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন, নেপাল ও ভারতে প্রচুর তুষারপাত হয়। তুষারপাতের তীব্রতা সইতে না পেরে পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে পাড়ি জমায় বিভিন্ন অঞ্চলে।এসময় হাজার হাজার অতিথি পাখি দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ দেশ বাংলাদেশে আসে এসব অতিথি পাখি। মুক্ত জলাশয় জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে আসছে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে আসা অতিথি পাখি।ডাসারের একটি ছোট্র জলাশয়ে তাদের অবাধ বিচরণ মুগ্ধ করছে কলেজের শিক্ষক -শিক্ষার্থী ও আগত দর্শনার্থীদের।
ডি,কে আইডিয়াল সৈয়দ আতাহার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর বিপনণ বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রেজা বলেন, শীতে আমাদের দেশে অতিথি পাখির আগমন প্রাকৃতিক ও জীববৈচিত্র্যের একটা অংশ। আমরা মুগ্ধ হই তাদের অবাধ বিচরণ ও কলকাকলিতে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, জীবন বাঁচাতে যারা আমাদের দেশে আশ্রয় নেয়, তাদের জীবন নাশে আমরা পাশবিক আনন্দ পাই। আমি চাই আমাদের দেশ তথা ডাসার গ্রাম হয়ে উঠুক অতিথি পাখির জন্য নিরাপদ অভয়ারণ্য ।
কলেজের এক শিক্ষার্থী বলে, সরকার দৃষ্টি দিলে এখানে পাখির অভয়াশ্রম গড়ে উঠবে। ডাসার হতে পারে পর্যটন নগরী।
ডাসার প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা বলেন, আমাদের এলাকায় অতিথি পাখির আগমনে আমরা খুব আনন্দিত ও খুশি, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি অতিথি পাখি জেন কেউ শিকার না করতে পারে বাহ ভয় ভিত্তি দেখাতে না পারে, প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে সর্তকতা মূলক সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিচ্ছি এবং অভায়আস্রম এর জন্য আলোচনা করে যাচ্ছি।
এবিষয়ে ডাসার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সারমীন ইয়াছমীন বলেন, ডাসারে অতিথি পাখির আগমন নিঃসন্দেহে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে।অতিথি পাখিগুলো যাতে অসাধু শিকারীরা নিধন না করে সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন নজর রাখবে।