নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হয়রানি এবং প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের চিকিৎসকের কক্ষের বাইরে একটি দালালচক্রের সদস্যরা রোগীদের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর রোগীরা কক্ষ থেকে বের হলেই একদল ব্যক্তি তাঁদের কাছে গিয়ে ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। এরপর কোথায় পরীক্ষা করাতে হবে, তা জানতে চেয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাঁরা নিজেদের পরিচিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কম খরচে পরীক্ষা করানোর প্রস্তাব দেন।
রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে আগে থেকেই যোগসাজশ করে রোগীদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে অনেক রোগী বিভ্রান্তিতে পড়েন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোথায় ও কীভাবে পরীক্ষা করাবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন।
বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ ও অসহায় রোগীরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে পারেন। চিকিৎসাসেবা নিতে এসে কেউ যেন প্রতারণা, অযাচিত প্রলোভন কিংবা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
সচেতন মহলের মতে, হাসপাতাল এলাকায় দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে সন্দেহজনকভাবে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র সংগ্রহ, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার প্রস্তাব এবং অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত তদারকি এবং রোগীদের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ ধরনের হয়রানি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোগীদের স্বার্থে দাবি উঠেছে—নেত্রকোণা সদর হাসপাতালকে দালালমুক্ত করে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।