প্রেমের অভিযোগে শিক্ষার্থীকে জুতাপেটা, দুই ঘন্টা পর শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার।

Date: 2022-11-22
news-banner



পিটি টুটুল, ভোলা জেলা প্রতিনিধিঃ

ভোলা জেলা চরফ্যাশন উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর দায়ে জুতাপেটার শিকার হয়েছেন এক স্কুল ছাত্র। ইয়ামিন নামের ওই শিক্ষার্থীর বয়স ১৬ বছর। ইয়ামিন অষ্টম শ্রেণীর অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানা এলাকার চর মানিকা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ চর আইচা গ্রামে। এই ঘটনা কি কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়।

সোমবার ২১ নভেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার প্রেমের সম্পর্কের জানাজানি হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীকে জুতাপেটা ও মারধর করেছেন বলে প্রেমিকার বাবা মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ। 

জুতাপেটা ও মারধরের এই ঘটনার দুই ঘন্টা পর বাড়ির পাশের একটি গাছে ইয়ামিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে ওই মেয়েসহ তাদের সহ-পরিবার পলাতক রয়েছে। দক্ষিণ আইচা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নেসার উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ইয়ামিন ও লাবনী একই বাড়ির বাসিন্দা। ইয়ামিন ওই গ্রামের মৃত রবিউল্লাহ মাঝির ছোট ছেলে। সে স্থানীয় চর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সেই সঙ্গে প্রেমিকা লাবনী ও একই গ্রামের মোঃ কামাল হোসেনের মেয়ে। সেও একটি স্থানীয় মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। 

ইয়ামিনের মামা মোঃ হাছান আলীর অভিযোগ করেন লাবনীর সঙ্গে ইয়ামিনের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। ইয়ামিনের চাচাতো ভাই রাকিবের সঙ্গে লাবনীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাবনীর বাবা কামাল হোসেন রাকিবের মাধ্যমে ঘর থেকে ইয়ামিনকে বাড়ির বেড়িবাঁধের ওপর ডেকে নেয়। এরপর রাকিব ও কামাল ইয়ামিনকে জুতাপেটা ও মারধর করে তার কাছ থেকে ফোনটি জোর জবরদস্তি করে ছিনিয়ে নেই। 

সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির এক নারী দেখতে পান গলায় রশি পেঁচানো ইয়ামিনের লাশ একটি গাছের সঙ্গে ঝুলে আছে। এরপর তারা পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনার পর রাকিব, লাবনী ও লাবনীর বাবা কামালসহ তাদের ঘরের সকলে পলাতক রয়েছেন। 

স্থানীয় চৌকিদারের সুত্রে জানা যায়, ইয়ামিনের সঙ্গে লাবনীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। লাবনীর বাবা কামাল হোসেন তাদের প্রেমের সম্পর্ক জানতে পেরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইয়ামিনের চাচাতো ভাই রাকিবের মাধ্যমে কামাল ইয়ামিনকে বাড়ির সামনের বেড়িবাঁধের ওপর ডেকে নিয়ে জুতাপেটা ও মারধর করে তার থেকে ফোনটি জোর জবরদস্তি করে ছিনিয়ে নেই। তাদের মারধরে বেড়িবাঁধের ওপর শুয়ে পড়েন ইয়ামিন। এ ঘটনার ২ঘন্টা পর বাড়ির পাশের একটি গাছে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাওয়া যায়।

উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ নেসার উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশের সাথে সাথে একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ইয়ামিনের লাশ তাদের (ইয়ামিনের) ঘরে দেখতে পান। তার গলায় দাগ রয়েছে। 

সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা স্থানীয় জনগণ ও সাংবাদিকদের কে জানিয়েছেন ।

উপ পরিদর্শক (এসআই) মোঃ নেসার উদ্দিন তিনি আরও জানান, লাবনীর সঙ্গে ইয়ামিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এমন একটি কথা-বার্তা বা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইয়ামিনের পরিবারও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আপাতত দক্ষিণ আইচা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Leave Your Comments