রিয়াজ উদ্দিনঃ
” চারিদিকে মৃত্যু মিছিল, শোকের হাহাকার।
বুক চাপা শুধু কান্নার রোল স্বজন হারাবার।”
পি.এম.খালী ইউনিয়নের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পি.এম.খালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক দুলাল কান্তি মোহন্ত দীর্ঘকাল কিডনীজনিত রোগে ভোগে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করার পরও সুফল হয়নি। উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতের একটি হাসপাতালে দীর্ঘ ১মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিছুদিন সুস্থ্যতার পর আবারো অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। হাজারো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যায়।
২৮শে নভেম্বর( সোমবার) রাত ১১.০০ টার সময় কক্সবাজার ইউনিয়ন হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল আনুমানিক ৪৫ বছর।
২০০১ সালে তিনি পি.এম.খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে সনাতন হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। দীর্ঘ ২২ বছর তিনি অত্র প্রতিষ্ঠানে যথাযথ ও সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেন। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মনে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন। তাহাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল মহেশখালী। তিনি দীর্ঘ বছর কক্সবাজার ঘোনার পাড়ায় বসবাস করতেন। পি.এম.খালী এক উদার মনের মানুষ গড়ার কারিগরকে হারিয়েছেন।
মরহুম দুলাল কান্তি মোহন্ত স্যারের সৎকার কার্য্যসম্পাদন করা হয় তাঁহার পৈত্রিক নিবাস মহেশখালীর আদিনাথ মহাশ্মশানে।
মরহুমের মৃত্যুতে পি.এম.খালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম সহ শিক্ষকবৃন্দ গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন এবং প্রিয় শিক্ষকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপণ করেছেন। জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন শিক্ষকতা পেশায়। তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছে হাজারো ছাত্র -ছাত্রী। তাঁর দেখানো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নের করছে বাস্তবায়ন। প্রতিটি ছাত্র ছাত্রী ও এলাকার প্রতিটি মানুষের মনে তিনি আজ থেকে থাকবেন চিরস্মরণীয় হয়ে। আমরা হারিয়েছি এই মহান মানুষ গড়ার কারিগরকে, একজন ভালো মনের মানুষকে। হারিয়েছি আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রিয় সহকর্মীকে।
শোকার্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, স্যারের মৃত্যুতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। স্যারের গুণ কখনোই শোধ করার মত নয়। তিনি আমাদের নিজের সন্তানের মত স্নেহ ও লালন পালন করেছেন। আজ আমরা মানতে পারছি না স্যার যে এভাবে আমাদেরকে ফেলে না ফেরার দেশে চলে যাবে। স্যারের পরিবারের প্রতি সমবেদনা কামনা করছি। সৃষ্টিকর্তা যেন স্যারের পরিবারকে শোক কেটে উঠার ধৈর্য্য ধারণের তওফিক দান করুক।