বাদল গংদের বন্টননামা করতেই হল।

Date: 2022-12-05
news-banner



নিজস্ব প্রতিনিধি:  অবশেষে আলোচিত সেই ওয়ারিশদের মধ্যে দু’টি স্থাবর সম্পত্তির বন্টননামা দলিল সম্পাদিত হয়েছে। বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে গত ১৬ নভেম্বর, বুধবার সাইদুর রহমান ওরফে বাদল গংদের সকল ওয়ারিশানের উপস্থিতিতে তেজগাঁও সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে বন্টননামা দলিল সম্পাদনের পর তা রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

যার একটি সম্পত্তি সকল ওয়ারিশের সাথে সমঝোতা না করে সাইদুর রহমান ওরফে বাদল গংদের পক্ষ হতে একাধিকবার বিক্রি করার চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়েছিল বলেও জানা যায়। যা থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল। 

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, ‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ; ভুগছে প্রতিবেশী’ শিরোনামে গত ১৪ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক ‘মুক্ত খবর’ পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে রাজধানীর লালবাগের আজিমপুর ও কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত সাইদুর রহমান ওরফে বাদল গংদের বাড়ি করা উপযোগী দুইখন্ড ভূমির কথা উল্লেখ করা হয়। 
পিতার মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিষয়ে বড় ছেলে সাইদুর রহমান ওরফে বাদল বিশেষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে ছোট ভাইদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখায় এবং সকলের সাথে আলোচনায় না আসায় উক্ত জায়গা দুইটি দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনায় পড়ে থাকায় সেখানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া এবং দূর্বাঘাস, আগাছা ও বিভিন্ন ধরনের গাছপালা জন্মে চলমান ডেঙ্গু সিজনে মশা-মাছি উৎপন্নের এক উৎকৃষ্ট জায়গায় পরিণত হওয়ায় ওই জায়গাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগছিল।

 এই অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে ঐ খবরে তা প্রকাশ করা হয়। এর পরপর মশক নিধন কার্যালয় থেকে একটি আভিযানিক দল সাইদুর রহমান বাদল গংদের আজিমপুরের প্লটে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা চায় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। 

অতঃপর গত ২৯ অক্টোবর, শনিবার সাইদুর রহমান ওরফে বাদল তার অনুগত ভাইদের মাধ্যমে অন্যান্য সকল (৬ ভাই) ভাইদের সাথে আজিমপুরের পত্রিক ভূমিতে সম্পত্তি বন্টন বিষয়ে আলোচনায় আসে। সেখানে ২নং ওয়রিশ বাবার স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তির বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উপস্থিত অন্যান্য ছোট ভাইয়েরা তাকে থামিয়ে দিয়ে পূর্বের ন্যায় আবারো এই বলে শর্ত জুড়ে দেয় যে, “বাবার রেখে যাওয়া ব্যাংক-ব্যালেন্স বা অর্থ-কড়ি বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। আজ শুধুমাত্র আজিমপুর ও কামরাঙ্গীরচরের (স্থাবর সম্পত্তি) জায়গার বিষয় সমাধান করা হবে।” এ সময় ২নং ওয়ারিশ সকলের উদ্দেশ্যে বলে যে, “বাবা মারা যাবার পর তোমরা ইতিমধ্যে স্বীকার করেছো যে, বাবার অনেক টাকা-পয়সা ছিল যা আমাদের আত্মীয়-স্বজন সকলেরই জানা আছে এবং বড়ভাই হিসেবে সাইদুর রহমান ওরফে বাদল বাবার অর্থনৈতিক বিষয় দেখভালের দায়িত্বে ছিল বলে সকলে মত প্রকাশও করেছো, যার যথেষ্ট প্রমানও রয়েছে। 
এখন তোমরা যদি সে বিষয়ে কথা বলতে না চাও এবং আমাকেও বলতে না দাও, তোমাদের কাছে আমার কথার নূন্যতম মূল্য যদি না থাকে! তাহলে আমি তোমাদের সাথে থাকবো কি করে? অথচ আমি সকলের সাথে মিলেমিশেই থাকতে চাই। তাই বাবার অস্থাবর সম্পত্তি যা ছিল, আর যেটা গোপন করা হয়েছে, এখন যতটুকুই আছে তা উপস্থাপন করো। যা হবার হয়ে গেছে, কিন্তু এখন আর কোনো কিছু গোপন রেখো না। যদি তাই করো, তাহলে বাবা মারা যাবার পর এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের মাঝে সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছে, যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছে তা আর কিছুই রবে না, এবং বড়ভাই কর্তৃক আমাকে ভাই হিসেবে যে অস্বীকার করা হয়েছে, সেটাও ভুলে, এসো আমরা সবাই মিলেমিশে একসাথে থাকি। আমাকে তোমরা পাশ কেটে যেওনা। তোমাদের বিবেগকে জাগ্রত করো, এবং তোমরা এটা করো, তোমরা সবকিছু উপস্থাপন করো, আমি কথা দিচ্ছি এলাকায় আমরা সুন্দর একটা দৃষ্টান্ত তৈরী করবো।” 

কিন্তু ২য় ওয়ারিশের একটি কথাও তারা আমলে না নিয়ে উল্লেখিত জায়গা দু’টি হতে সুবিধা মত অংশে প্রতিটি জায়গা থেকে ৬ এর ১ অংশ দ্বিতীয় ওয়ারিশের এবং ৬ এর ৫ অংশ প্রথম ওয়ারিশ সাইদুর রহমান বাদলসহ ৫ জনের জন্য চিহ্নিত করন করে সেদিনের আলোচনা শেষ করা হয়। গত ১৬ নভেম্বর (বুধবার) তেজগাঁও রেজিষ্ট্রি অফিসে তাদের ঐ সিদ্ধান্তের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। 

অতপর গত শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) ২য় ওয়ারিশ প্রথম পক্ষ এবং সাইদুর রহমান ওরফে বাদলসহ ৫ জন ওয়ারিশ একত্রে দ্বিতীয় পক্ষ হয়ে উক্ত জায়গা দুটি থেকে আমিন দিয়ে মাপ-ঝোপ করে উভয় পক্ষের সীমানা নির্ধারন পূর্বক উল্লেখিত ওয়ারিশগণ চুড়ান্তভাবে দু’টি পক্ষে আলাদা হয়ে তারা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের পরিবতে এক বৈরী দৃষ্টান্ত স্থপন করল বলে মনে করেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। 
আজিমপুর বটতলার পত্রিক ভূমিতে এই ওয়ারিশদের মাঝে দীর্ঘ সময়ের সেদিনের ওই উঠান-বৈঠকে সাইদুর রহমান ওরফে বাদল একটি কথাও বলেনি, এবং সে যেন নিজকে অনেকটা আড়াল করার প্রয়াসে ছোট ভাইয়ের চেয়ারের পেছনে সারাটাক্ষণ অন্যমনষ্ক ভাবধরে মাথা নিচু করে বসেছিল। ৬ জন ওয়ারিশের মধ্য হতে ২নং ওয়ারিশকে এক পক্ষে রেখে ১নং ওয়ারিশ বাদলসহ পাঁচজনের একত্রে একটি পক্ষ গঠন করা যেন তাদের পূর্ব পরিকল্পনারই অংশ ছিল, যা ঘটনার ধারাবাহিকতায় প্রতিয়মান হয় বলে ২য় ওয়ারিশ জানায়। সে আরও জানায়, ‘সাইদুর রহমান ওরফে বাদলের দুরভিসন্ধি অচিরেই এলাকাবাসীর কাছে প্রকাশ পাবে। কারন, সত্য কখনোই চাপা থাকে না। আপন গতিতেই তা বেরিয়ে আসে।’

Leave Your Comments