আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠিঃ ঝালকাঠির নলছিটিতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রায়নের ঘর নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশ্রায়নের নির্মানের বিধিমালা লংঘন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার ঘরে নির্মানের তদারককারীর দায়িত্ব কথিত সিএ রাজিব চক্রবর্তীকে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা গত মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ প্রকল্পে দূনীতির বিরুদ্ধে সরেজমিন তদন্ত ও রাজিব চক্রবর্তীকে অপসারণের দাবী করেছে।
দপদপিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি এসাহাক আলী হাওলাদার অভিযোগ করেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে সারাদেশে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর বরাদ্ধ দেন। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ২০% ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের শেখেরকাঠি গ্রামের কাঠের ঘর সংলগ্ন সরকারী খাস জমিতে ৪১টি ঘর বরাদ্দ নির্মান শুরু করা হয়।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, প্রকল্পের শুরুতে নলছিটির তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার নিয়ামুনযায়ী পিআইও ও এসওকে প্রকল্প বাস্তাবয়ন না রেখে অফিসের সার্টিফিকেট সহকার রাজিব চক্রবর্তীকে সিএ বানিয়ে ঘর নির্মানের দায়িত্ব দেন। সেই সাথে রুম্পা সিকদারের গাড়ী চালক কে অলিখিত ম্যানেজার বানিয়ে দূর্নীতি ও লুটপাটে মেতে উঠেন। এক নাম্বার ইট, মাটি দিয়ে জমি উন্নয়ন, পরিমান অনুযায়ী রড-সিমেন্ট ব্যবহারের কথা থাকলেও প্রকল্প শর্ত লংঘন করে জমি অবৈধ নদীর বালু দিয়ে ভরাট করে নাম্বারহীন ইট প্রয়োজন মতো রড না দিয়ে ও মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করে ঘর নির্মানের কাজ চালিয়ে যান।
এ ব্যাপারে দপদপিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাফ হোসেন বাবুল মৃধা বলেন, শুরু থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মান করায় রাজিবকে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। এতে রাজিব কোন কর্নপাত না করায় মাসিক সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরি। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে সরিয়ে দেয়ার কথা বললেও অদৃশ্য কারনে রাজিব চক্রবর্তীকে সরানো হয়নি। যেভাবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে আশ্রয়নের ঘর নির্মান করা হয়েছে তাতে ঘরে বসবাস করা খুবই ঝুঁকিপূর্ন হবে ও যেকোন সময় তা ভেঙে পরার আশংকা থেকে যাবে।
এই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য নাসিমা বেগম জানায়, আশ্রায়ন প্রকল্পের পূর্বে এই খাস জমিতে ১০টি বড় ও মাঝারি-ছোট মিলিয়ে শতাধিক গাছ থাকলে সবগুলো গাছ কেটে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। কয়েক লাখ টাকা মূল্যের এতোগুলো গাছ কেটে বিক্রি করে ফেলার পর উপজেলায় খোজ নিয়ে জানতে পারি বনবিভাগের পরিমাপ ছাড়াই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রাজিব চক্রবর্তী সবগুলো গাছ মাত্র ৫হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি দেখিয়েছে।
এ ঘটনায় দপদপিয়া ইউনিয়নের তবে অভিযুক্ত সিএ রাজিব চক্রবর্তি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান তিনি কিছু জানেন না। তবে তাকে নিম্নমান সামগ্রী ব্যবহার করা ও টেন্ডার ছাড়া গাছ কেটে বিক্রীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।