নওগাঁর রাণীনগর ভাটকৈ বাজারে সর্ব রোগের চিকিৎসক এখন জজ

Date: 2022-12-16
news-banner


মাহাবুব হাসান মারুফ, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগার রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদের ভাতকৈ বাজারে সর্ব রোগের ভুয়া চিকিৎসক দীর্ঘ দিন ধরে পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই চিকিৎসা প্রদান করছেন ঐ পল্লী চিকিৎসক। ঐ ভুয়া পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওযার পরে অনেকেই পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ চিকিৎসককে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন দপ্তরে অভিয়োগ করা হয়। কিন্তু তার খুটির জোর কোথাই এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না ঐ এলাকার সচেতন মহলের লোকজন। 
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কিডনি রোগ, ক্যান্সার,প্যারালাইজ,ডাযাবেটিস,হৃদরোগ, নাক কান গলা,বাত ব্যথাসহ সর্ব রোগের চিকিৎসা প্রদান করে আসছেন পল্লী চিকিৎসক জজ। ভুয়া চিকিৎসক শুধু রোগী দেখে পরীক্ষা নিরিক্ষা ছারাই হাই-পাওয়ারের অ্যান্টবায়েটিক ব্যাথার ইনজেকশন করে শুধু তাই নয়। তিনি যে ঔষুধ লিখেদেন তার দোকানে ছারা অন্য ঔষুধের দোকানে মিলেনা। ঔ পল্লী চিকিৎসাকের কাছে চিকিৎসা গ্রহণের  কিছুদিন পরে অনেকে পঙ্গুত্ব জীবন নিয়ে বিছানাতে শুয়ে রয়েছেন। এমনটি অভিযোগ করেছেন তার কাছে চিকিৎসা সেবা গ্রহনকারী রোগীগণ। 
সিংগাহার গ্রামের আলহাজ্ব রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমি ধরাগুডু খেলতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ওই পল্লী চিকিৎসক জজের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে যাই। প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে সরাসরি একটি সাদা শিশি থেকে ঔষধ নিয়ে ইনজেকশন পুশ করেন। এরপরে কয়েকদিন ভালো ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই পাফুলে ওঠে। এরপরে নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে নওগাঁর হাসপাতালের চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেলে রেফার্ড করেন। পরে রাজশাহী বিকেডিযামে হাসপাতালে দীর্ঘ ৯ মাস চিকিৎসার পরে ঘরে ফিরতে পেরেছি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারিনি। পল্লী চিকিৎসক জজের ভুল ইনজেকশনের কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।
শফিকপুর গ্রামের মৃত আজিম সরদার এর ছেলে আফজাল সরদারসহ অনেকে নাম পরিচয় গোপন করে রাখলে অভিযোগ করে বলেন, কিছু দিন পূর্বে আমার হাঁটুতে সামান্য ব্যাথা শুরু হয়। এরপরে আামি অসহায় দরিদ্র মানুষ দিন আনি দিন খাই কাজ করতে গিয়ে হাঁটুতে একটু ব্যাথা পাই এবং ভাতকৈ বাজারে ডাক্তার জজ এর কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে ৩শত টাকা নিয়ে আমাকে হাঁটুর গিড়াতে একটি ইনজেকশন করেন। পর পর ৮মাসে ৮টি ইনজেকশন করেন ডাক্তার জজ। এখন আমি আর হাঁট চলা করতে পারিনা। কোনো মতে লাঠি ধরে চলা ফিরা করি। ৮মাসে ডাক্তার জজকে ৪ থেকে ৫হাজার টাকা দিয়েছি। ডাক্তার জজ এর কাছে চিকিৎসা নিয়ে এখন আমি পঙ্গত্ব জীবন যাপন করছি।
পল্লী চিকিৎসক শরিফুল ইসলাম (জজ) এর সাথে কথা বলতে গেলে, ঐ বাজার সমিতির সদস্যগণ বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধুমকি প্রদান করেন। এমনকি সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করলে সাংবাদিককে মারধর করার হুমকি। সেই সাথে সাংবাদিক এর ক্যামেরা থেকে ভিডিও ডিলিট আর না হলে তাদের ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি । আর ঐ ভুয়া পল্লী চিকিৎসক এর সাথে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলতে পারা যায়নি। এমনকি তার পোষা লোকজন বলেন আর একবার ছবি বা ভিডিও করতে গেলে হাত পা ভেঙ্গে দিয়ে ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেরা হবে বলে হুমকি প্রদান করেন।
এবিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডাঃ আবুহেনা মোহাম্মদ রায়হানুজ্জামান সরকার বলেন, প্রথম কথা তার বিষয়ে আমার জানা নাই। পল্লী চিকিৎসক হিসাবে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সে প্রশিক্ষণ নিয়েছে কি না জানতে হবে। আর পল্লী চিকিৎসক হিসাবে শুধু ঔষুধ বিক্রয় করতে পারেন। তিনি আরও বলেন পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়া কি করে অ্যান্টবায়েটিক ব্যাথার ইনজেকশন দিতে পারেনা। আমি সিভিল সার্জেন হিসেবে খোজ খবর নিয়ে তার বিরুদ্ধে দ্ররুত আইন গত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা তিনি।

Leave Your Comments