নিজস্ব প্রতিনিধি: ছয় জন ওয়ারিশের মধ্য হতে একজন ওয়ারিশকে বাদ দিয়ে বাকিরা নিজেদের ইচ্ছে মত পত্রিক জমি বিক্রি করার গোপন চক্রান্ত ভেস্তে গেছে সাইদুর রহমান ওরফে বাদল গংদের।
ঘটনার সময় বাদ দেওয়া ওই ওয়ারিশ বিষয়টি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জানতে পেরে প্রতিরোধ গড়ে তুললে অবশেষে আলোচিত সেই ওয়ারিশদের মধ্যে দু’টি স্থাবর সম্পত্তির (জমি) বন্টননামা দলিল সম্পাদিত হয়। বন্টন আলোচনায় “মৃত পিতার রেখে যাওয়া ব্যাংক-ব্যালেন্স বা অর্থ-কড়ি (অস্থাবর সম্পত্তি) বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না“ ২ নং ওয়ারিশকে বাকি ৫ ওয়ারিশ মিলে এই বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়ে চাপের মুখে রেখে গত ১৬ নভেম্বর, বুধবার সাইদুর রহমান ওরফে বাদল গংদের সকল ওয়ারিশানের উপস্থিতিতে তেজগাঁও সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে উক্ত বন্টননামা দলিল সম্পাদনের পর তা রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উক্ত জমি দু’টি থেকে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন চরকামরাঙ্গী মৌজাস্থিত ৫ কাঠার প্লটটি ২ নং ওয়ারিশের সাথে সমঝোতা না করেই সাইদুর রহমান ওরফে বাদল গংদের পক্ষ হতে তাদের মনগড়াভাবে একাধিকবার বিক্রি করার চেষ্টা করা হয়। যা পরবর্তীতে থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। অতঃপর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গত ১৪ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক ‘মুক্ত খবর’ পত্রিকায় ‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ; ভুগছে প্রতিবেশী’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনায় পড়ে থাকায় তাদের ঐ জায়গা-জমি ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া এবং সেখানে দূর্বাঘাসসহ অন্যান্য আগাছা ও বিভিন্ন ধরনের গাছপালা জন্মে চলমান ডেঙ্গু সিজনে মশা-মাছি উৎপন্নের এক উৎকৃষ্ট জায়গায় পরিণত হওয়ার বিষয়টি উক্ত খবরে উঠে আসলে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যালয় থেকে একটি পর্যবেক্ষক দল সাইদুর রহমান ওরফে বাদল গংদের আজিমপুরের প্লটে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চায় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।
পরে গত ২৯ অক্টোবর, শনিবার সাইদুর রহমান ওরফে বাদল তার অনুগত ভাইদের মাধ্যমে অন্যান্য সকল (৬ ভাই) ভাইদের সাথে আজিমপুরের পত্রিক ভূমিতে সম্পত্তি বন্টন বিষয়ে আলোচনায় আসে। সেখানে ২ নং ওয়রিশ বাবার স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তির বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উপস্থিত অন্যান্য ছোট ভাইয়েরা তাকে থামিয়ে দিয়ে পূর্বের ন্যায় আবারো ওই শর্ত জুড়ে দেয় যে, “বাবার রেখে যাওয়া ব্যাংক-ব্যালেন্স বা অর্থ-কড়ি বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না।”
এ বিষয়ে ২ নং ওয়ারিশের একটি কথাও আমলে না নিয়ে তাকে প্রথম পক্ষ করে এবং ১ নং ওয়ারিশ সাইদুর রহমান বাদলসহ ৫ জন মিলে দ্বিতীয় পক্ষ হয়ে জায়গা দুটির বন্টন সীমানা নির্ধারন করে তারা সেদিনের আলোচনা শেষ করে। এবং গত ১৬ নভেম্বর (বুধবার) তেজগাঁও রেজিষ্ট্রি অফিসে বন্টননামা দলিল রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে তাদের ঐ সিদ্ধান্তের সফল পরিসমাপ্তি ঘটায়। অতঃপর গত ২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) ২ নং ওয়ারিশ প্রথম পক্ষ আর সাইদুর রহমান ওরফে বাদলসহ ৫ জন ওয়ারিশ একত্রে দ্বিতীয় পক্ষ হয়ে উক্ত জায়গা দুটি থেকে আমিন দিয়ে মেপে উভয় পক্ষের সীমানা চিহ্নিত করণ পূর্বক উল্লেখিত ওয়ারিশগণ চুড়ান্তভাবে দু’টি পক্ষে আলাদা হয়ে এলাকায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের সুয়োগ থাকা সত্বেও তারা এক বৈরী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আজিমপুর বটতলার পত্রিক ভূমিতে এই ওয়ারিশদের মাঝে দীর্ঘ সময়ের সেদিনের সেই উঠান-বৈঠকে মৃত: পিতার বড় সন্তান সাইদুর রহমান ওরফে বাদল একটি কথাও বলেনি, বরং সে যেন নিজকে অনেকটা আড়াল করার প্রয়াসে ছোট ভাইয়ের চেয়ারের পেছনে সারাটাক্ষণ অন্যমনষ্ক ভাবধরে মাথা নিচু করে বসেছিল। ৬ জন ওয়ারিশের মধ্য হতে ২ নং ওয়ারিশকে এক পক্ষে রেখে ১ নং ওয়ারিশ বাদলসহ পাঁচজনের একত্রে একটি পক্ষ গঠন করা যেন তাদের পূর্ব পরিকল্পনারই অংশ ছিল, যা ঘটনার ধারাবাহিকতায় প্রতিয়মান হয় বলে ২ নং ওয়ারিশ জানায়। সে আরও জানায়, ‘একই পরিবারের সদস্য হয়ে সাইদুর রহমান ওরফে বাদল এই পরিবারটির প্রতি “বছরের পর বছর ধরে” যে অন্যায়-অবিচার আর দুরভিসন্ধি করে আসছে, অচিরেই তা এলাকাবাসীর কাছে প্রকাশ পাবে। কারন, সত্য কখনোই চাপা থাকে না। আপন গতিতেই তা বেরিয়ে আসে।’
ইতোমধ্যে সাইদুর রহমান ওরফে বাদল ও তার বিশেষ অনুগত এক ভাইয়ের বাৎসরিক আয়-ব্যায়ের খসড়াসহ অন্যান্য যে সকল তথ্য বাত্রা বিচিত্রার কাছে এসে পৌঁছেছে তা “একজন ড্রাইভার-বাদলের ‘সুদ-বাদল’ ও ‘ব্যাংক-বাদল’ হয়ে ওঠার গল্প” এবং একজন পীরের ভবিষ্যৎবাণী “তোর ভিক্ষা কইরা খাইতে হইবো” শিরোণামে প্রকাশের অপেক্ষায় রইল। বিস্তারিত জানতে পাঠক, চোখ রাখুন জাতীয় সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রায়।