সুদখোর ব্যক্তির দাওয়াত গ্রহন; ইসলাম কি বলে

Date: 2022-12-29
news-banner



নিজস্ব প্রতিনিধি:  সুদখোর ব্যক্তির দাওয়াত গ্রহন বিষয়ে ইসলামের বিধান কি? তাদের দেওয়া দাওয়াত গ্রহন করা যাবে কি যাবে না? সমাজের সর্বসাধারণের মধ্য হতে এ বিষয়ে যাদের কোনো রকম ধারনা নেই, তাদের জন্য বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদের বক্তব্য থেকে বিষয়টি আলোকপাত করা হল। 

সাধারন কোনো দাওয়াত কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে আপনাকে দাওয়াত দেওয়া হলে আপনি তাতে অংশ নেবেন। যদি এ ধরনের অনুষ্ঠানে হারাম কিছু না থাকে তবে সেই দাওয়াত গ্রহণ করা সুন্নত। কেননা ইসলামের স্বীকৃতি মতে বিয়ে একটি ইবাদত ও আনুগত্যের স্মারক। তবে কোনো সুদখোর ব্যক্তির দেওয়া দাওয়াত গ্রহনের ক্ষেত্রে বিবেচনার বিষয় রয়েছে বলে মনে করেন ইসলামিক চিন্তাবিদগণ। 
মুসলিম স্কলার ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী এক বর্ণনায় বিষয়টি এভাবে বলেছেন যে, ‘সুদখোর ব্যক্তির যদি হালাল-হারাম উভয় ধরনের সম্পদ থাকে এবং তার অধিকাংশ সম্পদ হালাল হয়, তাহলে তার দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে। আর যদি অধিকাংশ সম্পদ হারাম হয়, তাহলে দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে না। আর যে সকল ক্ষেত্রে কিছুই জানা যাবে না, সে সকল ক্ষেত্রে দাওয়াত গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার মাঝেই সতর্কতা রয়েছে।’ 

তিনি এখানে সহিহ মুসলিম এর ১৫৯৯ নং হাদিস এবং সুনানে আবু দাউদ এর ৩৩২৯ নং হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “রাসূল (সা.) বলেছেন: হালাল বা বৈধ সুস্পষ্ট এবং হারাম বা অবৈধও সুস্পষ্ট আর এদুয়ের মধ্যবর্তী বিষয়গুলো হলো সন্দেহজনক। আর বেশীর ভাগ লোকই সেগুলো (সম্পর্কে সঠিক পরিচয়) জানেনা। অতএব যে ব্যক্তি ঐ সন্দেহজনক জিনিসিগুলোকে পরিহার করলো সে তার দ্বীন ও মান-সম্মানকে পবিত্র রাখলো। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক জিনিসে জড়িয়ে পড়লো সে হারামের মধ্যে পড়ে গেল।” 

সম্প্রতি অপরাধ অনুসন্ধানমূলক জাতীয় সাপ্তাহিক “বার্তা বিচিত্রা”র কাছে আসা এক তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, রাজধানী ঢাকার লালবাগ থানাধীন আজিমপুর বটতলার বাসিন্দা সাইদুর রহমান ওরফে বাদল তার পুত্র শিহাব আহমেদ ওরফে আকাশের বিবাহোত্তর বিশাল আনুষ্ঠানিকতার আয়োজনে আমন্ত্রণ জানিয়ে সমাজের বিশিষ্টজন থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবীসহ সর্বসাধারণের মাঝে দাওয়াতি কার্ড বিতরণ করছেন। 

জানা যায়, তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত সুদখোর বা সুদের কারবারি। সমাজের তৃণমূল থেকে উচ্চ স্তর পর্যন্ত খাটে তার সুদের ছোট ও বড় বড় অংকের টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এই সুদের ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত করায় ইতোমধ্যে তার নামের আগে “সুদ” শব্দটি খেতাব হিসেবে প্রতিষ্ঠাও পায়। সূত্র: জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজ, তারিখ- ১৯ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ। সেখানে সাবেক এই ড্রাইভার (গাড়ি চালক) বাদলকে বলা হয়েছে, “যিনি সুদ বাদল বা ব্যাংক বাদল নামে পরিচিত।” অনুসন্ধানী ঐ প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকার প্রায় শ’খানেক মাদক ব্যবসায়ীর কাছে বাদল তার সুদের টাকা খাটাত। 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, এই সুদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য বাদলের কাছে যে বিশাল অংকের টাকা (পুঁজি) রয়েছে, তার পুরোটাই অন্যের হক নষ্ট করে অবৈধ পন্থায় তার হাতে আসা কালো টাকা। নিয়মিত সরকারি ট্যাক্স (আয়কর) ফাঁকি দেয়া এই সুদের কারবারি বাদল চলতি অর্থবছরে (২০২২-২৩) দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নে তার বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ অধিকাংশ তথ্যই ভুয়া দেখিয়েছেন বলেও জানা যায়।  এ সকল বিষয়ে বার্তা বিচিত্রায় পরবর্তীতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। 

অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় এক ‘কোরআনের হাফেজা’ মেয়েকে ছেলের বউ করে আনার জন্য সুদ বাদল মেয়ের বাবার কাছে প্রস্তাব করলে ঐ হফেজা মেয়ের গৌরবান্বিত পিতা ‘কোনো সুদখোরের ছেলের কাছে তাঁর মেয়ে বিয়ে দিবেন না,’ বলে সুদখোরের এহেন প্রস্তাবকে একবাক্যে নাকচ করে দেন। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানা এলাকা থেকে ছেলের জন্য বউ জোগাড় করেন সুদ বাদল। সামাজিক অবক্ষয়ের নায়ক এই সমস্ত চিহ্নিত সুদখোর ও দুর্নীতিবাজদের সমাজের সচেতন মহল সামাজিকভাবে এভাবেই বয়কট করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে সূত্রটি বলেন, সুদখোরদের নিমন্ত্রণ রক্ষা কে করবেন আর কে করবেন না, তা সম্পূর্ণই তাদের নিজস্ব রুচির বিষয়। তবে চাকচিক্যের এই মিছে মায়াজালে পড়ে কেউ যেন তাদের ঈমানকে দুর্বল না করেন মহান প্রভুর কাছে নতশিরে সেই প্রার্থনা রইল।

Leave Your Comments