আব্দুল্লাহ আল মামুন (ঢাকা ব্যুরো প্রধান):
রাজধানীর লালবাগ থানাধীন জগৎ মোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৩ উদযাপন করা হয়েছে। ভাষাশহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আবদুস সালাম, আবদুল জব্বার, আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমদ ও শফিউর রহমানসহ নাম না জানা সকল ভাষাশহীদদের প্রতি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য ছড়া পাঠ ও চিত্রাংকন এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে মাতৃভাষা দিবসের রচনা, কবিতা আবৃত্তি, ও নান্দনিক হাতের লেখা প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়। সব মিলে ৫৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করে। এদের মধ্যে নান্দনিক হাতের লেখা, মাতৃভাষা দিবসের রচনা এবং কবি আল মাহমুদের ‘একুশের কবিতা’ আবৃত্তি করে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইয়ান বিন মামুন সর্বোচ্চ তিন বিষয়ে প্রথম পুরষ্কার অর্জন করে।
ভাষা দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস গল্পের ছলে ছোট্ট সোনামণিদের কাছে তুলে ধরেন সহকারী শিক্ষক রাবেয়া আক্তার। পরে প্রাথমিকের শিশুদের নিয়ে সাংস্কিৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী শিক্ষক উম্মে হাবীবা বর্ষা ও নার্গিস আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক শেখ মোসাম্মৎ নাসরিন মাহমুদা ও সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শায়লা রহমানসহ অন্যান্য সহকারী শিক্ষকবৃন্দ।
মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে স্মরণ করে জাতি আজ মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ‘অমর একুশে’ ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করছে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আজ বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৩ এর প্রতিপাদ্য হলো- “বহুভাষিক শিক্ষা- একটি বহুভাষিক বিশ্বে শিক্ষাকে রূপান্তরিত করার প্রয়োজনীয়তা।”
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাঁর বাণীতে বলেন, ‘অমর একুশের চেতনাকে ধারণ করে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হোক, বৈষম্যহীন বর্ণিল পৃথিবী গড়ে উঠুক- শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এটাই আমার প্রত্যাশা।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে গত ১৪ বছরে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছি। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করব- স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট ইকোনমি ও স্মার্ট সোসাইটি গড়ে তুলব।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়ন করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা জাতির পিতার স্বপে¦র মতো উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।’