পুলক রায়, শেরপুর:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় উদ্ধার হওয়া এক অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহের রহস্য মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দম্পতিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১ এপ্রিল সকালে শ্রীবরদী থানা পুলিশ উপজেলার একটি এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে বিষয়টি পিবিআইকে জানানো হলে জামালপুর জেলার একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তারা নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।
নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার। তিনি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থানার বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম মোঃ আলাল মিয়া। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম শফিক মিয়া বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় পিবিআই একটি পিকআপ গাড়ির সূত্র ধরে ৩ এপ্রিল অভিযানে নামে। শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়ন থেকে ওই গাড়ির চালক আশরাফ আলীকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে ৪ এপ্রিল ভোরে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাতশালা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে আটক করা হয়। পরে তারা আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত ডলি আক্তারের ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক বিয়ে ছিল এবং দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ সুযোগে ৩০ মার্চ রাতে নিয়ামুর নাহিদ তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর নাহিদ তার স্ত্রীর সহায়তায় মরদেহটি একটি ট্রাংকের ভেতর রেখে শ্রীবরদী এলাকায় ফেলে যায় এবং পরে গাজীপুরে পালিয়ে যায়।
পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, ঘটনার পরপরই দ্রুত তদন্ত শুরু করে প্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।