"মাঠপর্যায়ের মতামত নিয়ে প্রণয়ন হবে বাস্তবসম্মত আইন"
মোঃ আতিকুর রহমান, ক্রাইম রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সরকারি জলমহাল আইন, ২০২৬’ শীর্ষক প্রক্রিয়াধীন আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী প্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা জলমহাল ব্যবস্থাপনার বর্তমান সমস্যা, ইজারা প্রক্রিয়ার জটিলতা, প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং জলাশয়ের টেকসই ব্যবহারের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
এ সময় ভূমিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জলমহাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে জলমহালের সুফল ভোগ করতে পারেন এবং কোনো প্রকার দখলদারিত্ব বা অনিয়ম না থাকে, সে লক্ষ্যে আইনটি যুগোপযোগীভাবে প্রণয়ন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব সমস্যার আলোকে একটি কার্যকর ও টেকসই আইন প্রণয়নই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জলমহাল ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও প্রভাবশালী মহলের দখলদারিত্ব দীর্ঘদিনের সমস্যা। নতুন আইনের মাধ্যমে এসব সমস্যা নিরসন করে প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে ‘সরকারি জলমহাল আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্তকরণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এর আগে মন্ত্রী সুনামগঞ্জে পৌছার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দেরা মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জেলার উন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, হাওরাঞ্চলের সমস্যা ও জনদুর্ভোগ নিরসনে বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে নেতৃবৃন্দ সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, খাস জমি দখল, নদীভাঙন, ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়মসহ নানা সমস্যা উপস্থাপন করেন। তারা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ভূমি সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, সরকার ভূমি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম জোরদার করেছে। অনলাইনে নামজারি, খতিয়ান ও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করার মাধ্যমে দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিশেষ সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতকরণ, কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, সুনামগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম বন্ধ, হাওরাঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ভূমি অফিসে সেবার মান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সুনামগঞ্জের দীর্ঘদিনের সমস্যা অনেকাংশে সমাধান সম্ভব হবে।
শেষে নেতৃবৃন্দ স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।