পিটি টুটুল, ভোলা জেলা প্রতিনিধি।।
ভোলার তজুমদ্দিনে বিভিন্ন সময়ে তেরো জন বিকাশ ব্যবসায়ীর ১৭ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে প্রতারক আবদুল্লাহ আল ইমাম। উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খাসেরহাট বাজার, ঘোষের হাট ও কালী'র বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ীদের কে একাউন্টে টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে নগদ টাকা নিয়ে হঠাৎ করে গা ঢাকা দেয় শম্ভুপুর ইউনিয়নের সাত নং ওয়ার্ডের ইয়াছিন রত্তন এর ছেলে মোবাইল ব্যাংক এজেন্ট ইমাম।
স্থানীয়রা জানান, ইমাম তার চাচা লতিফ খলিফার রেডিমেড টেইলারিং এর দোকানের এক অংশে মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশ এর এজেন্সি নিয়ে টেলিকম ব্যবসা খুলে বসেন। লতিফ খলিফার উপর আস্থার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি টেলিকম ব্যাবসায়ীদের অনেকেই ইমাম এর চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ লেনদেন করতেন যা পরবর্তীতে একাউন্টে রিচার্জ করতো ইমাম। এভাবে দুএক বছর চলার পর গত ১২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি একইভাবে একাউন্টে টাকা রিচার্জ এর কথা বললে সরল বিশ্বাসে টেলিকম ব্যাবসায়ীরা তাকে টাকা দিয়ে দেন। অতঃপর একাউন্টে টাকা রিচার্জ না পেয়ে ইমাম এর মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বুঝতে পারেন অজ্ঞাত স্থানে পালিয়েছে ইমাম। তেরোজনের মধ্যে খাসেরহাট বাজারে আরজু টেলিকম এর স্বত্বাধিকারী মো: আরজু'র কাছ থেকে ৩৪৪,০০০, জননী টেলিকম এর স্বত্বাধিকারী মো : বাচ্চুর থেকে ৫০,০০০, কাজী মেডিকেল এন্ড টেলিকম এর মো: শান্ত'র কাছ থেকে ১১৫০০০, জিহাদ মেডিকেল এন্ড টেলিকম এর স্বত্বাধিকারী মো : বাসেদ এর কাছ থেকে ৪,৯৩০০০, খাসের হাট গ্লাস হাউজ এন্ড টেলিকম এর মো : সবুজ এর ১,৫০০০০,বিসমিল্লাহ লন্ড্রী এন্ড টেলিকম এর মো: কাবুল এর কাছ থেকে ৭৫,০০০, সুমন কসমেটিক এন্ড টেলিকম এর স্বত্বাধিকারী মো : সুমন এর কাছ থেকে ২৫,০০০, আলমদিনা গার্মেন্টস এণ্ড টেলিকম এর স্বত্বাধিকারী মো : মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ২৮০০০,নাজিম টেলিকম এর স্বত্বাধিকারী মোঃ নাজিম এর কাছ থেকে ২৫০০০ টাকা আত্নসাৎ করে পালিয়ে যায়। এছাড়া ঘোষের হাট সোহাগ টেলিকম এর স্বত্বাধিকারী মো : সোহাগ এর কাছ থেকে ৬৩০০০, লামছি শম্ভুপুর বাংলাবাজার এর রিতা টেলিকম এর স্বত্বাধিকারী মো : রিপন এর কাছ থেকে ১,৭২০০০, কালি'র বাজার ফরহাদ টেলিকম এর স্বত্বাধিকারী মো : ফরহাদ এর কাছ থেকে ৮০০০০, নন্দলাল বাজারের বাবুল টেলিকম এর স্বত্বাধিকারী মো : বাবুল এর কাছ থেকে ৭৩০০০ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
এদিকে এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে ক্ষুদ্র অনেক টেলিকম ব্যাবসায়ী ও বিকাশ এজেন্ট। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনায় হতভম্ব হয়ে গেছে ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা। এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা।তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইন চার্জ মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান,' এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে'। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উক্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করার খবর পাওয়া যায়নি।