নালিতাবাড়ীতে বাবার সাথে দিনমজুরের কাজ করে বৃত্তি লাভ!

Date: 2023-03-01
news-banner



আল আমীন 
নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি।। 

প্রতিদিনের মতো বাবার সাথে ট্রলি থেকে ইট নামাতে  সহযোগিতা করছিলো আলিফ। হঠাৎ বিদ্যালয় থেকে বাবার মোবাইলে ফোনে কল এলো। জানানো হলো আলিফ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।

আশেপাশের লোকজন সবাই অবাক! এ যেন আঁধার ঘরে চাঁদের আলো! একটু বুঝে উঠার সাথে সাথেই আলিফ বুঝে গেছে দরিদ্রতা কি জিনিস। লেখাপড়া চলছে নিজের মনের জোরেই, কিন্তু তিন বেলা ঠিক মতো খেতে হলে বাবাকে সহযোগিতা করা ছাড়া উপায় নেই তার। তাই বাধ্য হয়ে ট্রলি চালক বাবাকে প্রায়ই সহযোগিতা করে থাকে আলিফ।

নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য থেকেও চমক দেখিয়ে ক্ষুদে এই শিক্ষার্থী। পেয়েছে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি। শুধু তাই নয় নালিতাবাড়ী উপজেলায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়াদের মধ্যে আলিফের রোল নম্বর রয়েছে ৩ নম্বরে!

জানা গেছে, এ বছর শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৬১ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১২৭ জন সাধারণে বৃত্তি পেয়েছে।

এর মধ্যে উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের হাতিপাগার গ্রামের ট্রলি চালক আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে আলিফ হোসেন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে হাতীপাগার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছে। বৃত্তি পরীক্ষা তার রোল নম্বর ১৪৬। উপজেলা থেকে এ বছর ৬১ জন ট্যালেন্টপুলে পাওয়াদের মধ্যে আলিফের রোল রয়েছে তিন নম্বরে। উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে এমন অসাধারণ ফলাফল অনেক কেউ অবাক করেছে।

তবে দরিদ্রতার বাঁধায় আলিফের ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকারে!কারণ বাবার সাথে কাজ করার কার‍ণে প্রায়ই বিদ্যালয়ে যাওয়া হয় না তার। যদিও মনটা খারাপ থাকে এজন্য। তবুও পড়ালেখাটা চালিয়ে যেনে চায় আলিফ। 

হাতিপাগার গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল আহমেদ বলেন, আমরা সত্যি অবাক হয়েছে আলিফের এমন সাফল্য দেখে।  দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠা আলিফের পাশে যদি বিত্তবানরা দাঁড়ান তাহলে সে ভবিষ্যতে অনেক ভালো কিছু করতে পারবে।

Leave Your Comments