মাহদী আব্দুল্লাহ, ঈশ্বরদী উপজেলা প্রতিনিধি।।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের নলগাড়ি জামে মসজিদে জুমার খুতবায় সুদ ও ঘুষের বিরুদ্ধে বয়ান করায় ইমামকে হুমকি দিয়েছেন পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান পিন্টু। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
গত শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মসজিদে জুমার খুতবার সময় বয়ান দিচ্ছিলেন মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। উল্লেখ্য যে, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম পার্শবর্তী প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাকশী ফুরফুরা শরীফ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তিনি গত বাইশ বছর যাবত উক্ত মসজিদে জুম্মার নামাজের ইমামতি করছেন।
মসজিদের মুসল্লি ও এলাকাবাসী জানান, বয়ানে মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সুদ ও ঘুষের টাকা দিয়ে অনেকেই হজে যাচ্ছেন, তাদের হজ কতটুকু আল্লাহ কবুল করবেন আল্লাহ জানেন। আবার নির্বাচনের সময় দেখা যায়, বিভিন্ন চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রতিশ্রুতি দেয় নানা ধরনের কাজ করে দেবেন, কিন্ত নির্বাচনের পরে আর কোনো খোঁজখবর থাকে না তাদের।
ইমামের এমন বয়ান মসজিদের মাইকের মাধ্যমে শুনতে পান পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিন্টু। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হুজুরকে মসজিদের বাইরে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করেন এবং চরম অপমানিত করে এমন বয়ান পরবর্তীতে দিলে সমস্যা হবে বলে হুমকি দেন।
এ বিষয়ে ভুক্তোভোগী ইমাম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, জুম্মার নামাজের সময় সুদ, ঘুষসহ যারা বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায় তাদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি দেবেন আল্লাহ, কিছু মানুষ দেশের টাকা মেরে খেয়ে হজ্জ করতে যাচ্ছে, এমন কথা পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিন্টু শোনার পর তিনি আমার কাছে এসব কেন বললেন জানতে চান। ভবিষ্যতে আর এই ধরনের বয়ান না দিতে নিষেধ করেন।
তবে এসব বিষয় অস্বীকার করে পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিন্টু বলেন, আসলে ঘটনাটা এমন না। হুজুর ভুলভাল বয়ান দিয়েছিলেন পরে এসে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আর আমি কোনো হুমকি ধামকি দেই নাই। কোনো গালিগালাজও করি নাই।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, এ বিষয়ে আপনার থেকেই প্রথমে শুনলাম। এখনই এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।