মণিরামপুরে ছাত্র ছাত্রীদের রাস্তায় পেটান অভিভাবক সদস্য

Date: 2023-03-02
news-banner



মণিরামপুর প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর স্কুল এন্ড কলেজের একাধিক  ছাত্র ছাত্রীদের গালিগালাজ ও বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ উঠছে  অভিভাবক সদস্য আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে।শিক্ষার্থীদের মানসিক শারীরিক কোন ধরনের নির্যাতন না চালাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। সেখানে একজন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কর্তৃক নির্যাতনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।মারধরের শিকার হয়েছে একাধিক শিক্ষার্থী তারা হলেন ৭ম শ্রেনী সাকিব, ৯ম শ্রেনীর সাথী,  নাছরিন ও শামিমা সহ নাম না প্রকাশে অনেক শিক্ষার্থী । বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণির ছাত্র সাকিব গত সোমবার আনুমানিক ১০ টার দিকে স্কুল চলাকালীন সময় বিশেষ কাজে স্কুল গেটে সাইকেল রেখে দোকানে যান।এসময় অভিভাবক সদস্য আসাদুজ্জামান সেখানে উপস্থিত হয়ে সাকিব কে দেখতে পেয়ে ডাক দেন এবং সাকিব নিকটে আসলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং হাতে থাকা লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট করেন।বিষয়টি স্থানীয় এক যুবক ভিডিও ধারন করে গণমাধ্যম কর্মিদের নিকট দিলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে গেলে বেরিয়ে আসে একাধিক ছাত্র ছাত্রী পেটানোর ঘটনা। একেএকে মারপিটের শিকার শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা।গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার সময় স্কুলে জাতীয় সঙ্গীতের পূর্ব মূহুর্তে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারির বাইরে একটি দোকানের সামনে ঘটে অভিভাবক সদস্য  আসাদুজ্জামানের হাতে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের ঘটনা।উক্ত ঘটনার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা ভয়ে বিদ্যালয়ে আসা নিরাপদ মনে করছে না বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।
মারপিটের শিকার১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাকিব জানান,আমি অপরাধ করলে আমার শিক্ষকরা আমাকে মারপিট করুক অভিভাবক সদস্য কেন আমাকে মারবে।কোন অপরাধ না করেও অভিভাবক সদস্য আসাদুজ্জামান আমাকে কাঠের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।আমি এখন ভয়ে বাড়ী থেকেও বের হতে পারছি না। যে কোন সময় ঐ অভিভাক সদস্য আবারও মারপিট করতে পারে সে ভয়ে।আমি এর সুষ্ঠ বিচার দাবী করি। 
৭ ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাথীকে বিদ্যালয়ে না পেয়ে তার বিড়ীতে যেয়ে কথা বলে জানা যায়,অভিভাবক সদস্যের হঠাৎ বেপরোয়া আচারনে এবং মার খেয়ে ভয়ে স্কুলে যায়নি।তার হাতে থাকা লাঠির বাড়িতে শরীর আঘাত পেয়েছে এবং টিফনবক্স ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন।
নাছরিন ও শামিমা বলেন, অভিভাবক সদস্য আসাদুজ্জামানের কাছ থাকা লাঠির আঘাত সাইটে থাকা  লোহার রডে না লেগে শরীরে লাগলে আজ আমাদেরকে হসপিটালে থাকতে হতো।আল্লাহ আমাদেরকে বাঁচিয়েছিলো সেদিন। 
শিক্ষার্থী নাছরিনের আম্মু আসাদুজ্জামানের মারপিটে ঘটনার বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষক আমাদের সন্তাদের মারপিট করতে পারে সেখানে আমাদের কোন অভিযোগ নাই। কিন্তু তিনি কেন আমাদের মেয়ের গায়ে হাত তুলবে কেন লাঠি দিয়ে মারপিট করবে।আমরা এর সুষ্ঠু বলেন চার চাই । 
টিআর সদস্য শিক্ষক সন্তোষ কুমার রায় বলেন, বিষটি আমাদের কে কেউ জানাইনি। তবে ঘটনাটি ঘটেছে বিদায়লয়ের বাইরে স্কুল চলাকালীন সময়ে। বিষয়টি নিয়ে আগামী মিটিংয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে  গণমাধ্যম কর্মীদের জানান।
সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান  বলেন, সরকারি বিধি নিষেধ মেনে কোন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শরীরে আঘাত এমনকি মানুষিক ভাবেও কোন নির্যাতন করা হয় না।তবে যে ঘটনা ঘটেছে তা আসলেই আমাদের কাম্য নয় তার নিকট থেকে। 
সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান , আমি ঘটনাটি শুনেছি তবে আমরা কোন ভাবে এটার জন্য দায়ী নই। আর ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাউন্ডারির বাইরে ঘটেছে যা আমাদের জানা ছিলো না।
প্রধান শিক্ষক চঞ্চল ভট্টাচার্যের সাথে মুটোফোনে কথা বলে জানা যায়, তিনি ঘটনার দিন বিশেষ কাজে খুলনাতে ছিলেন। তবে বিষয়টি শুনেছেন এবং উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে জানান।
অভিযুক্ত আসাদুজ্জামানের ০১৯২৪৮৫৮৯৮৮ নাম্বারে মারপিটের বিষয় জানতে চাইলে  বলেন, আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের শাসন করার চেষ্টা করতে এমনটা করা হয়েছে। আসলে আমি ভুল করেছে।
মণিরামপুর  উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার   বলেন, ঘটনাটি আমার নিকট ফোনে জানিয়েছিলো তবে লিখত কোন অভিযোগ দেয়নি।লিখত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।তবে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে চাননি।

Leave Your Comments