স্টাফ রিপোর্টার: এক ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ (জিডি) করে তাকে হয়রানি ও দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে রাখার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে তারই আপন বড় ভাই সাইদুর রহমান ওরফে বাদলের বিরুদ্ধে। সেখানে অন্যান্য ভাইদের মধ্য হতে কেউ কেউ এই ভিত্তিহীন অভিযোগে সাক্ষীও হয়েছেন। ঘটনাটি লালবাগ থানাধীন আজিমপুর বটতলা এলাকার। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লালবাগ থানার জিডি নং- ৭৮৪, তাং- ১৭/১২/২০২২ খ্রিঃ। জিডি সূত্রে বিবাদীকে নোটিশ করা হলে ভিকটিম ছোট ভাই জিডির বক্তব্য মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ করে তথ্য-উপাত্তসহ জিডি তদন্তকারী অফিসারের নিকট লিখিত বক্তব্য দাখিল করে। অতঃপর তদন্ত অফিসার উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মত বিনিময়ের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও জিডি/অভিযোগকারী সাইদুর রহমান ওরফে বাদল বিবাদীর সাথে সামনা-সামনি বসতে সম্মত হচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। বার্তা বিচিত্রার সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে যে, সাইদুর রহমান ওরফে বাদল তার এই ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ ঘটনায় এলাকায় আম-জনতাকে মিথ্যা সাক্ষী হতে প্ররোচিতও করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন একজন এই প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি স্বতস্ফুর্ত স্বীকার করেছেন।
সাইদুর রহমান ওরফে বাদল উক্ত জিডিতে উল্লেখ করেন যে, “বিবাদী সম্পর্কে আমার আপন ছোট ভাই। আমরা ৬ ভাই। কিছুদিন আগে পৈত্রিক সম্পত্তি সমহারে বন্টন করা হয়েছে। বর্তমানে সে (বিবাদী) লোক মুখে বলে বেড়াচ্ছে আমার নিকট না-কি বাবার রেখে যাওয়া বিপুল পরিমানে টাকা পয়সা আছে। যাহার ভাগ সে দাবী করিতেছে। এবং আমি দিচ্ছি না। ইহাতে আমি সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছি। এই বিষয়ে আমি বিবাদীকে গত ইং ২৯/১০/২০২২ তারিখে উল্লেখিত স্থানীয় বাড়ির সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে আমাকে বলে উক্ত টাকার সমপরিমানে ভাগ না দিলে আমাকে দেখে নিবে বলে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে।”
এ বিষয়ে ভিকটিম (বিবাদী) ছোট ভাই বলেন, “স্থানীয় বাড়ির সামনে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমি তাকে (বাদী) অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদানের যে অভিযোগ তিনি আমার বিরুদ্ধে করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। সেদিন এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বাদীর উদ্দেশ্যই হচ্ছে আমাকে হয়রানি করা এবং বিপদে ফেলা। যা ইতোমধ্যে সে ও তার ছেলে শিহাব আহমেদ আকাশ বারংবার করেছে। তারা বাপ-বেটা মিলে আমাকে দেখে নেওয়ার এবং মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। আমাকে এলাকা ছেড়ে জাহান্নামে গিয়ে লুকিয়ে থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া যেখানেই লুকাই না কেন, সে আজরাইল হয়ে আমার সামনে আসবে, তখন আমাকে মরণের জন্য আর্তনাদ করতে হবে কিন্তু মরণ আমার নসিবে হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়েছে।
সাইদুর রহমান ওরফে বাদল কর্তৃক পরিচালিত একটি সমবায় সমিতিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন পূর্বে ‘মাদক ব্যবসায়ীদের মহাজোট ঢাকায়’ শিরোনামে একটি জতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদে ঢাকা শহরের বিভিন্ন থানা এলাকার ২৮ টি গ্রুপসহ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীদের নাম উল্লেখ করা হয়, যারা তার কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিয়ে মাদক ব্যবসা চালাত বলে বলা হয়। এলাকার থানা আওয়ামীলীগ ও থানা ছাত্রলীগের দু’জন নেতার নাম জড়ানো হয় এবং স্থানীয় প্রসাশনকেও জড়ানো হয় উক্ত সংবাদের বক্তব্যে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পূর্বে যিনি প্রতিবেদন লিখেছেন তার সাথে সাইদুর রহমান বাদলের মুঠোফোনে কথপোকথনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সাইদুর রহমান বাদল প্রকাশিত ওই সংবাদ বিষয়ে তার সমিতির সদস্যগণ এবং এলাকার কিছু সাধারন জনগনের মাঝে কৌশলে আমার নামটি ছড়িয়ে দেয় এই বলে যে, ‘ঐ নিউজটি আমি করেছি।’ মুহূর্তেই এটি মানুষের মুখে মুখে রটে যায়। এতে করে আমি চরম নিরাপত্তাহীনভাবে উল্লেখিত মাদক ব্যবসায়ী, এলাকায় আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসীর একটি অংশের রোষানলে পড়ে যাই। যেহেতু প্রসাশনকেও জড়ানো হয়েছে, পরদিন লালবাগ বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার অফিসে আমার ডাক পড়ে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. নাজির খান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে যা সত্য আমি তাই বলি। অতঃপর লিখিত বক্তব্য দিয়ে আমি প্রসাশনকে বোঝাতে সক্ষম হই যে, ‘ঐ সংবাদ বিষয়ে এবং যিনি প্রতিবেদনটি লিখেছেন তার সাথে আমার কোনোরকম যোগসূত্র নাই।’ প্রসাশনকে বোঝাতে সক্ষম হলেও এলাকার আম-জনতা ও উল্লেখিত মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে আমাকে এখনও চরম নিরাপত্তাহীনভাবে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এখনো আমি আতংকে রয়েছি।”
এক প্রশ্নের জবাবে ভিকটিম আরও জানায়, এত কিছুর পরেও তাদের বাপ-বেটার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় নাই মূলত তিনটি কারনে। প্রথমত পারিবারিক বিষয়গুলো টেনে বাইরে নিয়ে আসাটা আমার পছন্দ নয়। দ্বিতীয়ত সাইদুর রহমান বাদলের ছেলেটি একজন শিক্ষার্থী, ‘শিহাব আহমেদ আকাশ’ নামটি এই অল্প বয়সেই প্রসাশনের খাতায় নথিভুক্ত হবে, এটি আমার বিবেক সায় দেয়নি। তাই সেদিন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. নাজির খান তাদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাকে সমর্থন করলেও আমি অভিযোগ না করেই ফিরে আসি। তৃতীয়ত সাইদুর রহমান বাদল আমার সাথে বছরের পর বছর ধরে যে অন্যায়-আচরন ও বিমাতা-সুলভ কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে, এক সময় সে হয়তো সেটি বুঝতে পারবে এবং বড় ভাই সুলভ আচরণে ফিরে আসবে বলে আমার বিশ্বাস ছিল। কিন্তু সব কিছুরই একটা সময় বা সীমা থাকে, এখন সেটি ছাড়িয়ে গেছে.. .।