বিপ্লব ইসলাম, লংগদু (রাঙ্গামাটি) :
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের রাজনগর-রুপনগর এলাকায় ইয়াবা সেবনের অভিযোগে দুই যুবককে আটক করাকে কেন্দ্র করে মাদকবিরোধী সংগঠন আলোকিত যুব সমাজ রুপনগর যুব উন্নয়ন ক্লাব-এর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ৫ থেকে ৬ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগর-রুপনগর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে ইয়াবা সেবন করছিলেন মোকসেদ ও হৃদয় নামের দুই ব্যক্তি। খবর পেয়ে এলাকাবাসী, মাদকবিরোধী কমিটি ও যুব সমাজের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদের আটক করেন।
আলোকিত যুব সমাজ রুপনগর যুব উন্নয়ন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সেদিন ফার্মাসিস্ট মোকসেদকে ইয়াবা খাওয়া অবস্থায় মাদকবিরোধী যুব সমাজের ১৫-২০ জন সদস্য মিলে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে আটক করি। এ ঘটনার জের ধরে গত ২০ মে সকাল ১১টার দিকে চৌমুহনী বাজারে আমাকে মারধর করে মোকসেদ।
তিনি আরও বলেন, পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতারা আমাদের ক্লাবে বিচার বসান এবং বিচার সুন্দরভাবে শেষ হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবুল কালাম ও তার ভাতিজা আবির হঠাৎ করে এসে আমাদের ক্লাবের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
হামলায় গুরুতর আহত হন আলোকিত যুব সমাজ রুপনগর যুব উন্নয়ন ক্লাবের সদস্য নুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও ৫ থেকে ৬ জন। এর মধ্যে গুরুতর আহত দুজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নুর জাহান আক্তার লাকী বলেন, আমার বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘরে মোকসেদ ও হৃদয় ইয়াবা খাচ্ছিল। লোকজন এসে তাদের ধরার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি এই অবস্থা। মোকসেদের মুখ থেকে তাৎক্ষণিক ইয়াবার গুঁড়া ও সরঞ্জাম পাওয়া যায় এবং সে আমাদের সামনে বিষয়টি স্বীকার করে।
অভিযুক্ত মোকসেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিচার পরবর্তী মারামারির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে সকালে চৌমুহনী বাজারে আমি সাজ্জাদের কাছে দোকানের বাকি টাকা চাইলে সাজ্জাদ হঠাৎ আমাকে আক্রমণ করেন। পরে আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে আমি শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিই। পরে হাসপাতাল থেকে ফেরার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধান হয়। সমাধান শেষে আমি বাসায় চলে যাই। পরে কেন মারামারি হলো, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
এ বিষয়ে জানতে আবুল কালামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গুলশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিলন মেম্বার বলেন, বিচার চলাকালীন সময়ে আবুল কালামের ভাতিজা আবির পেছন থেকে যারা ইয়াবা সেবনকারীদের ধরেছে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। একটু পরে বিচার শেষ হলেই তারা এসে ওদের ওপর হামলা করে।
এদিকে স্থানীয়রা এলাকায় মাদকসেবন, মাদক কারবার ও নেশাগ্রস্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।