আহসান হাবীব রানা, ইবি।।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) একসময় জটের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত ছিলো। বিগত কয়েকবছরে সেই দূর্নাম কাটিয়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিভিন্ন কারণে আবারও সেশনজটের গ্যাঁড়াকলে পরেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আট বিভাগের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পাঁচ বছর পূর্ণ করলেও স্নাতকের পাঠ চুকাতে পারেননি আজও। এছাড়াও কয়েকটি বিভাগ এক সেমিস্টার পিছিয়ে আছে। সেশনজট হওয়ার কারনগুলো হলো- সময়মত পরীক্ষা না নেওয়া, ফল প্রকাশে ধীরগতি, সন্ধ্যাকালীন ব্যাচ ও করোনা পরবর্তী একাডেমী রোডম্যাপ না করা।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ রয়েছে ৩৬ টি। এরমধ্যে আটটি বিভাগ পরেছে তীব্র সেশনজটে। আট বিভাগের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৭০ জন। এসব বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অর্নাসের চার বছর শেষ করেও চতুর্থ বর্ষে উঠতে পারেনি। গত চার বছরে মাত্র পাঁচটি সেমিস্টার শেষ করেছে এই বিভাগগুলো।
তীব্র সেশনজটে থাকা বিভাগগুলো হলো- বাংলা, ইংরেজি, আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত এবং পরিসংখ্যান বিভাগ।
এর মাঝে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ২য় সেমিস্টার পরীক্ষা চলমান। এদিকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অবস্থা আরও নাজুক। ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীরা চার বছর পার করে এখনও তৃতীয় বর্ষের ১ম সেমিস্টার পরীক্ষায় বসতে পারেনি।
সেশনজটে থাকা আটটি বিভাগের বাংলা, ইংরেজি, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিত এই পাঁচটি বিভাগেই সন্ধ্যাকালীন ব্যাচ চালু আছে। এসব ব্যাচে ক্লাস, পরীক্ষা ও রেজাল্ট নিয়মিত হচ্ছে। এসব বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যত সমস্যা নিয়মিত ব্যাচ নিয়ে।
সেশনজটে আটকে থাকা বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম বলেন, করোনা পরবর্তীতেও প্রতিটি সেমিস্টার শেষ করতে ছয় মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ক্লাস শুরু করে ২০২৩ সালের জুন মাসে এসে ষষ্ট সেমিস্টারের ক্লাস করছি। চার বছরে মাত্র পাঁচ সেমিস্টার শেষ হয়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেশনজট থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক মুঈদ রহমান বলেন, পুরনো বিভাগকে স্বয়ংসম্পূর্ণ না করে, নতুন বিভাগ খোলার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। শিক্ষকরা যদি আন্তরিক হয় যে আগামী তিন সপ্তাহে সিলেবাস শেষ করবো। সেটা সম্ভব। আমার সামনে আমার স্টুডেন্ট কান্না করবে, এটা আমি শিক্ষক হয়ে সহ্য করবো, সেটা বেমানান।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমার জানামতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সেশনজ্যাম নেই। আমরা এসব বিভাগে কথা বলে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করবো।