আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক): বাজারে বা দোকানে গেলেই দেখা যায় পলিথিন। ছোট বড় যে কোনো সদাই নিলেই বিনে পয়সায় মেলে এই পলিথিনের ব্যাগ। একটা সময় ছিল যখন বাজারে গেলে মানুষজন হাতে করে একটা চটের ব্যাগ নিয়ে যেতেন। কিন্তু আশির দশকে প্রথম বাজারে পলিথিনের ব্যবহার শুরু হয়। এরপর থেকে বাজারে যে ধরনের দোকানেই যান না কেন বিনে পয়সায় পলিথিনের ব্যাগ দেয়া শুরু হল। সহজে সকল দোকানে বিনে পয়সায় চাইলএই পলিথিনের ব্যাগ পাওয়া যায়।
পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় আমাদের এই দেশে অনেক পরের দিকে পলিথিন ব্যবহার শুরু হয়। কিন্তু তা আমাদের জন্য এতটাই বড় বিপর্যয় ডেকে আনে যে, ব্যবহার শুরুর ১৫ থেকে ২০ বছরের মাথায় ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে এর উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ ও ব্যবহারকে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়। শুরুর দিকে বেশ কড়াকড়ি হলেও ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে যায় আইনের প্রয়োগ। আর এখন বাংলাদেশে এটি যে নিষিদ্ধ তা বোঝারই কোন উপায় নেই।
আইন বলছে, পলিথিন উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ অবৈধ। কিন্তু প্রতিদিনের জীবনে পলিথিনের ব্যবহার কোথায় নেই? নিত্যদিনের বাজার-সদাই তো আছেই, এক টাকা দামের চকলেট থেকে লাখ টাকার ফ্রিজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র কিনতে গেলেও তার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে পলিথিন। আর এই পলিথিন ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হচ্ছে যত্রতত্র। অপচনশীল পলিথিনে ভরাট হচ্ছে পয়োনিষ্কাশনের নালা-নর্দমা। আর তাতে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ ছাড়া চাপা পড়া পলিথিন নষ্ট করছে মাটির গুণাগুণ।
সংশোধিত পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-২০০২ অনুযায়ী, পলিথিন বিক্রি, বিক্রির জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দায়ে অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আর পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের দায়ে অন্যূন ২ বছর, অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অন্যূন ২ লাখ টাকা, অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে অপরাধীরা। আইনে এমনটিই বলা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন, বিপণন ও পরিবহনে কোথাও এই আইনের ন্যূনতম প্রয়োগ লক্ষ্য করা য়ায় না।
রাজধানীর বাদামতলী ফলপট্টি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন আকার ও রঙের পলিব্যাগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায় যে, পুরো ফলপট্টি জুড়ে পলিব্যাগ ব্যবসায় রাজত্ব করছে হাতে গোনা কয়েকজন। এদের মধ্যে কেউ কেউ ভ্যানে করে ২৫ কেজিওয়ালা বেশকিছু পলিব্যাগের বস্তা নিয়ে এসে খুচড়া ব্যবসায়ীদের মাঝে ১/২ বস্তা করে পাইকারি দরে ছেড়ে দিচ্ছে। তারা আবার ২/৪ কেজি করে পুরো ফলপট্টি এলাকায় এসব পলিথিনের ব্যাগ ছড়িয়ে দিচ্ছে। “এভাবে অবৈধ পলিথিন ব্যবসার ছড়াছড়ি, কেউ বাধা দেয় না !” এমন এক প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি জানায়, ভ্যানে করে পলিব্যাগ আনার সময় কিছু বাধা আসে, সেক্ষেত্রে কিছু পয়সা দিতে হয়। কারা বাধা দেয় জানতে চাইলে, তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
অবৈধভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করে পলিথিন ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট আইনকে তুচ্ছ জ্ঞাণ করে দিনের পর দিন এই অবৈধ পলিথিনের ব্যবসা চালিয়ে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে, অন্যদিকে দেশর বিভিন্ন জেলা শহর ও গ্রাম-গঞ্জে অবৈধ পলিথিন ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনছে। আছে আইন, আছে আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থা। তবুও যেন এসব দেখার কেউ নেই.. .।