আল–জাজিরা এক্সপ্লেইনার চীন ও রাশিয়ার একে অন্যকে কতটা প্রয়োজন

Date: 2026-05-21
news-banner

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর চীন সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কূটনৈতিক সফর নয়; বরং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে চীন নিজেকে একটি নির্ভরযোগ্য ও আস্থাভাজন শক্তি হিসেবে তুলে ধরার কৌশলগত পদক্ষেপ।

চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping ও পুতিন এক বছরের কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেছেন। বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিশ্ব রাজনীতিকে আরও বিভক্ত করে তুলেছে।

চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত “সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি”-র ২৫ বছর পূর্তির সময়েই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই চুক্তির মধ্য দিয়েই দীর্ঘদিনের মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব ও সীমান্ত উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার রাতে চীনে পৌঁছান পুতিন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বুধবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পুতিনকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান সি চিন পিং। পরে দুই নেতার মধ্যে বৈঠক এবং প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতি এবং পশ্চিমা চাপ রাশিয়া ও চীনকে আরও কাছাকাছি এনেছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়া রাশিয়া এখন বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে ক্রমেই চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং Strait of Hormuz–এ জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন চীন এখন রাশিয়ার স্থলপথের জ্বালানির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে বহুদিন ধরে আলোচনায় থাকা “পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২” গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ঘনমিটার গ্যাস রাশিয়া থেকে চীনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতার ওপরও দাঁড়িয়ে আছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার জন্য চীন এখন সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। একই সঙ্গে চীনও রাশিয়াকে নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহকারী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে দেখছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ার পর মস্কো ব্যাপকভাবে চীনা প্রযুক্তি ও উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। একইসঙ্গে চীন কম দামে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানির সুযোগ পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও পুতিনকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আতিথ্য দেওয়ার মাধ্যমে China বিশ্বকে একটি বার্তা দিতে চেয়েছে—বিভক্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বেইজিং নিজেকে স্থিতিশীল ও প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

Leave Your Comments