সাকিব হোসেইন, (কুমিল্লা) সংবাদদাতা:
কুমিল্লার তিতাসের নারান্দিয়া ইউনিয়ন আসমানিয়া বাজার ও ভিটিকান্দি ইউনিয়ন দুলারামপুর বাজারে ভুয়া হোমিও ডাক্তারের ছড়াছড়ি। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ভুয়া চিকিৎসক জমজমাট ব্যবসা করলেও যেন দেখার কেউ নেই। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাস না করে, হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই নামের পূর্বে ডা. লিখে চেম্বার খুলে চালাচ্ছেন জমজমাট ব্যবসা। এদের কারণে প্রকৃত হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের সুনাম বিনষ্ট হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসমানিয়া বাজার জুড়ে গড়ে উঠেছে ভুয়া হোমিও ডাক্তারের চেম্বার। বাজারের কাজী হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী মো. আবু বকর, আব্দুল্লাহ হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী আছমা আক্তার (নাজমা), হোম প্যাথ মেডিকেল + হলের স্বত্বাধিকারী আলী আহামদ, নামহীন প্রতিষ্ঠান হোমিও চেম্বারের স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক ও দুলারামপুর বাজারের ভূইয়া হোমিও ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ আলাউদ্দিন ভুইয়া ডিএইচএমএস পাসের সনদ ছাড়াই নামের পূর্বে ডা. লিখে চেম্বার খুলে চালাচ্ছেন জমজমাট ব্যবসা। এ সকল হোমিও হলে চর্ম, যৌন, গ্যাস্ট্রিক, জন্ডিস, আলসার, টিউমার, আমাশয়, কিডনি পাথর, পিত্ত পাথর, হার্নিয়া, শ্বাসকষ্ট, হাপানিসহ নানা জটিল রোগের আধুনিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার আশ্বাস দেওয়া থাকলেও তাদের নিজেদেরই নেই হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন, ডিএইচএমএস পাসের সনদ ও ড্রাগ লাইসেন্স।
স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক হোম প্যাথ মেডিকেল + হলের স্বত্বাধিকারী আলী আহামদ এর চেম্বারে গিয়ে দেখতে পান ময়লা আবর্জনায় ভরা তার চেম্বারটি। আর তার মধ্যে পুরোনো/ডেট এক্সপায়ার্ড ওষুধের বোতল। এগুলো সম্পর্কে আলী আহামদ বলেন হোমিও ওষুধের ডেট এক্সপায়ার হয় না। আমি অনেক পুরোনো এ পেশায় আমার সনদ আছে তখন সনদ দেখতে চাইলে তিনি ডিএইচএমএস কোর্সের পরিক্ষার একটি নাম্বর পত্র দেখিয়েছেন কিন্তু সনদ দেখাতে পারেনি এগুলো অনলাইনে চেক করলে আসবে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এগুলো অনলাইনে নেই।
এ বিষয়ে কাজী হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী মো. আবু বকর এর কাছে জানতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের দেখে নিজেকে আড়াল করে দোকান বন্ধ করে চলে যান। পরে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানায় তার ডিএইচএমএস পাসের সনদ নেই। তবে কোর্সে অধ্যায়নরত তিনি। সনদ ছাড়া ডা. লিখার কারন জানতে চাইলে তিনি তার কোন প্রত্যুত্তর দিতে পারেনি। আব্দুল্লাহ হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী আছমা আক্তার (নাজমা) মুঠোফোনে প্রতিবেদক কে বলেন, আমি অধ্যায়নরত ডিএইচএমএস কোর্স এখনো শেষ হয়নি।
দুলারামপুর বাজারের ভূইয়া হোমিও ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ আলাউদ্দিন ভুইয়া বলেন আমার ডিএইচএমএস কোর্সের সনদ নেই তবে ড্রাগ লাইসেন্স আছে।